জুমার বয়ান: ওলামায়ে কেরামের মর্যাদা ও গুরুত্ব

বিবরণ: পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা অনেক নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। তারা সবাই মানুষকে লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ -র দীক্ষা দিয়েছেন। মুহাম্মদ স. এর আগমনের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় নবী-রাসূল পাঠানোর ধারা। কিন্তু থেকে যায় শরীয়ত আর মানুষ। মানুষ তার রবকে বারবার ভুলে যায়, এটাই তার স্বভাব। তাকে সতর্ক করার প্রয়োজন বারবার। তাই ক্বিয়ামত পর্যন্ত এই সতর্ক করার দায়িত্ব দেয়া হয় ওলামায়ে কেরামকে। তাদেরকে বানানো হয় নবী-রাসূলদের প্রকৃত উত্তরাধিকার।

আমাদেরকে তাই ওলামায়ে কেরামের প্রকৃত প্রাপ্য সম্মান বুঝিয়ে দিতে হবে। পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরাম যাকে দেখতেন যে, তারা ওলামায়ে কেরামের দুর্নাম করছেন, তারা তার ইসলাম নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেন। এমনকী একে নিজের আখেরাত ধ্বংসের কারণ মনে করতেন।
Continue Reading…

সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলাম

এক.

“সংখ্যালঘু” শব্দটি বৈষম্যপূর্ণ। ইসলামে এমন কোনো শব্দ নেই। আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে মানুষকে মূলত দু’ভাবে সম্বোধন করেছেন। “হে মানবজাতি” ও “হে ঈমানদারগণ”। মুমিনদের উদ্দেশে বিশেষ কিছু বলতে হলে বলেছেন “হে ঈমানদাররা”, অন্যথায় “হে মানবজাতি” বলে সমগ্র মানবজাতিকে সম্মানের সাথে সম্বোধন করেছেন।

ইসলামের শুরুটা অল্পসংখ্যক মানুষকে দিয়েই। এজন্য প্রথম দিকে মুসলিমদের অনেক নির্যাতিত হতে হয়েছে। মুসলিমরা তাতে কখনো দমে যাননি। ঈমানের পথে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করেছেন সকল বাধা।

তাকওয়া ছাড়া মানুষের সম্মান নির্ধারণের আর কোনো উপায় নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়ার অধিকারী”। (সূরা হুজুরাত: ১৩) রাসূল স. বলেছেন, “জেনে রাখো! কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের সম্মান নেই, আবার কোনো শুভ্রবর্ণের ব্যক্তির ওপর কোনো কৃষ্ণবর্ণের ব্যক্তির সম্মান নেই, তাকওয়ার মাধ্যম ছাড়া”। (শুয়াবুল ঈমান)

অর্থাৎ, একমাত্র তাকওয়াই ব্যক্তি সম্মানের মাপকাঠি। আর তাকওয়া যেহেতু অন্তরের বিষয়, বাহ্যিকভাবে দৃশ্য নয়, তাই বাস্তবে মানুষ হিসেবে সম্মানের দিক থেকে ভেদাভেদের তেমন কোনো সুযোগ নেই। আর সে জন্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু হওয়া সম্মানিত বা অসম্মানিত হওয়ার কোনো কারণ মোটেও নয়।

 

দুই.

ইসলাম রহমতের ধর্ম, দয়ার ধর্ম। আল্লাহ তায়ালা রাসূল স. কে পাঠিয়েছেন সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে। (সূরা আম্বিয়া: ১০৭) তাঁর প্রতিটি কথায়, কাজে ও আচরণে দয়া-মায়ার ছোঁয়া লেগে থাকত। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই তাঁর দয়া ও ভালবাসায় ধন্য হত।

ওহুদের যুদ্ধে রাসূলের স. দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর কয়েকজন সাহাবী তাদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করতে বললে তিনি স. দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! আপনি আমার কাওমকে হিদায়াত দিন। তারা তো বুঝে না”। (শুয়াবুল ঈমান) Continue Reading…

নাস্তিকতার আড়ালে ইসলাম অবমাননা : প্রয়োজন উলামায়ে কিরামের সচেতনতা

এক.

সূচনালগ্ন থেকেই কাফির-মুশরিকদের অস্তিত্বের জন্য বড় আতঙ্কের নাম ইসলাম। ইসলামের বিজয়, ইসলামের প্রচার-প্রসার মানে তাদের সুস্পষ্ট পরাজয় – এ সত্য উপলব্ধি করতে তাদের মোটেও বিলম্ব হয় নি। তাই তো সেই রাসূলের স. যুগ থেকেই ইসলাম বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে তারা।

যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। কখনো প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে মানুষকে বলেছে, কখনো বা মুসলিমদের হত্যা করেছে নির্বিচারে। আবার ইতিহাসের কোনো ক্ষণে শহীদ করেছে লাখো উলামাকে।

গত শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন কারণে ইসলামের শত্রুরা তাদের কাজের ধরণ পরিবর্তন করেছে। ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার চেয়ে বরং মুসলিম বেশে ইসলামের ক্ষতি করাকে তারা বেশ উপকারী মনে করছে। বিশেষ করে ইসলাম আমাদের কাছে যার মাধ্যমে এসেছে, সেই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ স. –এঁর ভালবাসা মুমিনের হৃদয় থেকে বের করার হীন ষড়যন্ত্রে নেমেছে তারা।

 

দুই.

ইন্টারনেট আবিস্কারের ইতিহাসটা খুব বেশি দিনের নয়। ১৯৯০ সন থেকে মোটামুটি ইন্টারনেটের বিশ্বব্যাপী ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। প্রাথমিকভাবে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীকালে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে ইন্টারনেট ভূমিকা রাখতে শুরু করে। Continue Reading…

জুমার বয়ান: রাসূলের স. ভালবাসা ও আমাদের করণীয়

বিবরণ: রাসূলুল্লাহ স. বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। শুধু ইসলামের নবী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে তিনি সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। তাই তো অমুসলিম বহু ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁকে মূল্যায়ন করে গিয়েছেন। তাঁকে কলঙ্কিত করা মানে পুরো মানবজাতিকে কলঙ্কিত করা। এই বয়ানে রাসূল স. সম্পর্কে অমুসলিম বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উক্তি এবং রাসূলের স. ভালাবাসা প্রকাশে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। Continue Reading…

ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্ষকের শাস্তি

বেশ কিছুদিন ধরে সংবাদপত্রে ধর্ষণের সংবাদগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। ফেইসবুক ও ব্লগাগুলোতেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসছে। ভিন্ন শব্দ ও প্রকাশে সবার একটাই চাওয়া। ধর্ষককে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করা।

এসব আলোচনা দেখে এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখার নিয়ত করেছি। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শুরু করছি।

ধর্ষণের সংজ্ঞা:

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ধর্ষণ হলো: Continue Reading…

Page 1 of 52123»81624Last »