নাস্তিকতার আড়ালে ইসলাম অবমাননা : প্রয়োজন উলামায়ে কিরামের সচেতনতা

এক.

সূচনালগ্ন থেকেই কাফির-মুশরিকদের অস্তিত্বের জন্য বড় আতঙ্কের নাম ইসলাম। ইসলামের বিজয়, ইসলামের প্রচার-প্রসার মানে তাদের সুস্পষ্ট পরাজয় – এ সত্য উপলব্ধি করতে তাদের মোটেও বিলম্ব হয় নি। তাই তো সেই রাসূলের স. যুগ থেকেই ইসলাম বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে তারা।

যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। কখনো প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে মানুষকে বলেছে, কখনো বা মুসলিমদের হত্যা করেছে নির্বিচারে। আবার ইতিহাসের কোনো ক্ষণে শহীদ করেছে লাখো উলামাকে।

গত শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন কারণে ইসলামের শত্রুরা তাদের কাজের ধরণ পরিবর্তন করেছে। ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার চেয়ে বরং মুসলিম বেশে ইসলামের ক্ষতি করাকে তারা বেশ উপকারী মনে করছে। বিশেষ করে ইসলাম আমাদের কাছে যার মাধ্যমে এসেছে, সেই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ স. –এঁর ভালবাসা মুমিনের হৃদয় থেকে বের করার হীন ষড়যন্ত্রে নেমেছে তারা।

 

দুই.

ইন্টারনেট আবিস্কারের ইতিহাসটা খুব বেশি দিনের নয়। ১৯৯০ সন থেকে মোটামুটি ইন্টারনেটের বিশ্বব্যাপী ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। প্রাথমিকভাবে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীকালে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে ইন্টারনেট ভূমিকা রাখতে শুরু করে।

বর্তমানে ইন্টারনেট ভিত্তিক সমাজ “সোশাল মিডিয়া” ও ব্লগ-ফোরামকে সিটিজেন জার্নালিজম বা গণমানুষের সাংবাদিকতা বলা হয়। ফলে মূল ধারার সংবাদ-মাধ্যমগুলোর সাথে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্লগ ও সোশাল মিডিয়ার প্রভাবের পার্থক্য খুব বেশি নয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্লগের লেখায় পার্লামেন্টেও তোলপাড় হয়েছে। ব্লগ ও ব্লগারকে অনেক দেশেই জনসাধারণের মতামত হিসেবে গুরুত্বসহ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

আমাদের দেশে ব্লগারদের ব্লগ ও লেখা ইতোপূর্বে অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ব্লগারদের এতদিন তেমন বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি।

গত কয়েক বছরের ব্লগাররা শীতার্ত মানুষকে শীত বস্ত্র প্রদান, ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধনসহ নানা সামাজিক কাজে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছে। তবু ব্লগারদের সংবাদ সাধারণত গণমাধ্যমগুলোতে ভেতরের পাতার ছোট কোনো কলামেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

মনে করা হয়, এবার শাহবাগ প্রজন্ম চত্তরের মধ্য দিয়েই মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে ব্লগ ও ব্লগারদের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

 

তিন.

আজ থেকে প্রায় নয়-দশ বছর আগের কথা। ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার ব্যবহার তখন নেই বললেই চলে। পারিবারিক সুবিধায় সে সময় কিছু ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সুযোগ হত। তখন আলী সীনা ছদ্মনামে এক ব্যক্তি ইন্টারনেটে লিখতেন। নিজেকে তিনি এক্স মুসলিম বা পূর্বে মুসলিম ছিলেন বলে দাবী করতেন। এবং আরো দাবী করতেন যে, তিনি পরবর্তীতে খ্রীস্টান হয়ে গেছেন ইসলামের প্রতি নিরুৎসাহী হয়ে। ফেইথফ্রীডম বা মুক্তবিশ্বাস নামে তার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট ছিল। নিজেকে আরবের বাসিন্দা বলেও দাবী করতেন তিনি।

কিছু একটা খুঁজতে গিয়েই একদিন তার ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ি। তাতে মুসলিমদের প্রতি মোট এগারো কি বারোটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া ছিল। সবগুলোই প্রিয় নবীজীর স. জীবনকে কেন্দ্র করে। রাসূলের স. বিভিন্ন বিবাহ এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন রা. নিয়ে ছিল প্রশ্নগুলো।

সাইটের ব্যানারে লেখা ছিল, “যদি কোনো মুসলিম আমার প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন, তাহলে আমি আমার সাইট মুছে ফেলব”। আপাৎদৃষ্টিতে যা ছিল খুব নিরীহ একটি ব্যানার ও আবেদন।

যাই হোক, আমার তরুণ হৃদয়ে সাইটটি সে সময় প্রচন্ডরকম রক্তক্ষরণ করে। আমি তার বারোটি প্রশ্ন – যা প্রায় শত পৃষ্ঠা ছিল – প্রিন্ট করি। এবং সেগুলোর বিভিন্ন দুর্বল দিকগুলো হাইলাইট করে রাখি। দৃঢ় শপথ নিই, এগুলোর উত্তর ইনশা’আল্লাহ দিবই।

আলী সীনার প্রশ্নের জবাব দেয়ার নিমিত্তে পড়াশোনা বেশ ক’বছর জারী থাকে। এর মধ্যে আবিস্কার করি যে, আলী সীনার জবাবে ইংরেজী ও আরবীতে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট হয়ে গেছে। এবং অনেক উলামা তার উত্তর দিয়েছে। কিন্তু তার একই কথা, উত্তর যথার্থ হয়নি। অনেকটা “বিচার মানি, তালগাছ আমার” –এর মত।

এমনকী, তাকে সরাসরি বাহাসে আসতেও আহ্বান জানানো হয়েছে। সে রাজী হয়নি। তাকে ফোনে বা অনলাইনে কথা বলতে আহ্বান করা হয়েছে। সেটাতেও সে রাজী হয়নি। পরবর্তীতে ডা.জাকির নায়েকও তাকে কনফারেন্সে আহ্বান করেছেন। কিন্তু তাও সে রাজী হয়নি। মূলত আলী সীনার নাম আসল কিনা, তাও সে কখনো স্পষ্ট করেনি।

এর অনেকদিন পর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তার বিভিন্ন লেখা থেকে সংগৃহীত প্রমাণ দেখতে পাই যে, সে আসলে একজন ইহুদী, যে কখনোই মুসলিম ছিল না। মূলত মুসলিমদের মাঝে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়ার জন্যই এ কাজ করছে সে। বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় নি যে, আলী সীনা কোনো ব্যক্তি নয়, আলী সীনা একটি গ্যাং। ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করাই যাদের লক্ষ্য।

 

চার.

সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় অনলাইনে প্রথম ব্লগ চালু হয় ২০০৫ এ। ব্লগ শব্দটি ওয়েব ও লগ শব্দদ্বয়ের সন্ধি। এর অর্থ অনলাইন দিনলিপি। কিন্তু বর্তমানে শুধু দিনলিপি নয়, বরং সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়  ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় ব্লগে স্থান পায়। ব্লগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, নানা মতের মানুষ লেখক বা ব্লগারের লেখার ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও মতামত জানাতে পারে। যা আর কোনো গণমাধ্যমে সম্ভব নয়।

বাংলা ভাষায় ব্লগ চালু হওয়ার পর তা মূলত বিভিন্ন সাংবাদিক, মিডিয়াকর্মী, নবীন কবি, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়া যে কারো জন্যই আনন্দের, ব্লগেও বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। অনেকের মাঝেই জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

জনপ্রিয়তা ও হিট (ব্লগের ভিজিট সংখ্যা) বেশি হওয়ার জন্য অনেকেই ইসলাম বিরোধী ব্লগ লেখা শুরু করে। দেখা যায়, গঠনমূলক কোনো লেখা দিলে তাতে মন্তব্য পাওয়া যায় হাতে গোনা কয়েকটি। আর ইসলাম বিরোধী ব্লগ লিখলে তাতে মন্তব্য-উত্তর ও নানা তর্ক-বিতর্ক মিলিয়ে মন্তব্য ছাড়িয়ে যায় শতককে।

এভাবেই জন্ম হয় বেশ কিছু তরুণ স্বঘোষিত নাস্তিকের। যারা নিজেদের নাস্তিক পরিচয় দিয়ে তৃপ্তি পায় এবং নাস্তিকতার আড়ালে মূলত ইসলামের কুৎসা রটায়। বিশেষ করে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ স. এঁর পারিবারিক জীবন নিয়ে যাচ্ছেতা লিখতে থাকে।

আলী সীনা নামে পূর্বে যে ব্যক্তির কথা বলেছি, তার বহু লেখার হুবহু বাংলা করতে দেখেছি অনেককে। অনেকে তাদের লেখায় রেফারেন্স দিয়ে থাকে সহীহ বুখারী ও মুসলিম থেকে। কিন্তু তর্কে জড়ালে কিছুই বলতে পারে না। মূলত তারা অনুবাদ করে নাস্তিক।

মজার ব্যাপার হলো, ব্লগগুলোর সঞ্চালকরা এসব লেখার বিষয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেন না। তা হয়ত তাদের ব্লগে হিট বাড়ানো জন্য, নতুবা নিজ মতাদর্শের অভিন্নতার জন্য।

নব্য নাস্তিক পরিচয়ধারী এসব ব্লগাররা পরবর্তীতে আরো নতুন কিছু বাংলা ব্লগ সাইট খুলে। এবং এগুলোর কয়েকটি শুধু ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে অশ্লীলতা ছড়ানোর জন্যই। সেসব সাইটে আজ থেকে বছর তিনেক আগে নবীজী স. কে অপমান করে প্রকাশ করে অশ্লীল কমিক ই-বই। যেগুলো বছরের পর বছর পড়া হয় ও ডাউনলোড করা হয়।

এছাড়া অন্য ব্লগগুলোতেও তুলনামূলক ইসলাম বিরোধী লেখা বেশি প্রকাশ হয়। যারা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাদেরকে অনেক সময় সঞ্চালকবৃন্দ ব্যান (ব্লগ বা মন্তব্য প্রকাশ করার অধিকার হরণ) করেন। মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার ছায়াতলে এসব নাস্তিকদের সহযোগিতা করে যান।

আলী সীনা যেভাবে তার ব্যানারে লিখেছিল, যদি কোনো মুসলিম এগুলোর উত্তর দিতে পারে, তাহলে আমার সাইট মুছে ফেলব; তারাও একইভাবে ব্লগের আগে বা পরে লিখে দেয় যে, আমি অনেক দিন ধরে এসবের উত্তর খুঁজছি; কেউ জানলে দয়া করে জানাবেন।

আর যখন এগুলোর কোনো উত্তর দেয়া হয়, তখন একের পর অশ্লীল গালাগালি করে উত্তরদাতাকে হেনস্থা করা হয়। এবং “ছাগু” সহ বহু অশ্লীল উপাধি দেয়া হয়। ফলে এক শ্রেণীর পাঠক, যারা নীরবে পাঠ শেষে চলে যান, তারা হৃদয়ে নিয়ে যান ইসলাম নিয়ে অনেক সন্দেহ। ধীরে ধীরে এসব সন্দেহ তাদেরকে ঈমান ছাড়া করে।

 

পাঁচ.

বাংলাদেশে মুসলিমদের পর্যায় কয়েকটি। এক. ধার্মিক বা ধর্মপ্রাণ মুসলিম। দুই. সাধারণ মুসলিম। যারা ধার্মিক, সাধারণত নাস্তিকদের প্রচার তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তবে যারা সাধারণ মুসলিম, নাস্তিকদের লেখা তাদের সংশয়বাদী করে তোলে। সংশয় থেকে ধীরে ধীরে ঈমানহীনতা তৈরি হয়।

নাস্তিকদের যেসব লেখা অশ্লীল গালিগালাজ, সেগুলো সাধারণত তেমন ক্ষতিকারক নয়। তবে যেগুলো কুরআন-হাদীসের রেফারেন্সসহ দেয়া হয়, সেগুলো সাধারণ মুসলিমদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। যখন তারা দেখে যে, এসবের কোনো উপযুক্ত উত্তর দেয়া হয় নি, তখন তারা ভাবতে শুরু করে যে, নাস্তিকদের দাবীগুলোই সত্য।

এ ক্ষেত্রে উলামায়ে কিরামের অবদানের কোনো বিকল্প নেই। নাস্তিকদের রেফারেন্সগুলো মূলত আগ-পিছ বাদ দিয়ে বা মাঝ থেকে তুলে ধরা। যেগুলো কেবল উলামায়ে কিরাম উত্তর দিতে পারেন। তাই অনলাইনে ব্লগসমূহে উলামায়ে কিরামের ব্যাপক অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবী।

 

ছয়.

অনলাইনে ব্লগ লেখা এবং অনাগত অনলাইনের নানা ফিৎনা বুঝা ও মুকাবেলা করার জন্য উলামায়ে কিরামকে প্রযুক্তি বিষয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ ছাড়া যে কোনো ফিৎনার মূল জানা ও পড়াশোনার জন্য ইংরেজীর কোনো বিকল্প নেই।

তাই মাদ্রাসার নেসাবে কম্পিউটার শিক্ষা ও ইংরেজী কথন, লিখন ও বুঝার যোগ্যতা অর্জন হয় এমন বিষয় সংযোজন করা অতীব প্রয়োজন। কওমী মাদ্রাসাসমূহের বোর্ডগুলো এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিলে বিষয়টা সহজ হতে পারে।

প্রতিটি মাদ্রাসায় একটি কম্পিউটার ল্যাব ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকা উচিৎ। মাদ্রাসার নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা উচিৎ। ওয়েবসাইটে ছাত্র, উস্তায সবাই লেখা প্রকাশ করবে। এছাড়া উস্তাযদের বয়ান, প্রকাশিত বই ইত্যাদিও আপলোড করা হবে। ফতোয়া বিভাগগুলো অনলাইনে ফতোয়া দিবে। তাহলে সাধারণ মুসলিমরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।

এছাড়া লেখক, মাওলানা, মুহাদ্দিস, মুফতী, খতীব, বক্তা ও ওয়ায়েয –প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থাকা উচিৎ। আরবের প্রায় প্রত্যেক আলেমেরই ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট আছে।

নাস্তিকদের অপরাধের জবাবে গণআন্দোলন একটি সচেতনতার শুরু হতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবে রূপায়ণ করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।

 

সাত.

ধর্মীয় অবমাননা বা ধর্মের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা দেশীয় আইনের চোখে অপরাধ।  দন্ডবিধি (The Penal Code),১৮৬০ এর ধারা ২৯৫,২৯৬,২৯৭ ও ২৯৮ –এ অপরাধভেদে এর জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডের বিধান রয়েছে। আর অনলাইনে ধর্মীয় অবমাননা একটি সাইবার ক্রাইম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন,২০০৬ এর ধারা ৫৭ তে ওয়েব সাইটে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার শাস্তি হিসেবে অনধিক দশ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি বিশেষ টিম গঠন করে বিটিআরসি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিডি-সিএসআইআরটি) নামে এই টিম সে সময় থেকে সাইবার ক্রাইম সনাক্তে কাজ শুরু করে। একই বছরের ২২ এপ্রিল থেকে contact@csirt.gov.bd ঠিকানায় সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে অভিযোগ ও পরামর্শ নেয়া শুরু হয়। অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্ত করে গুরুত্ব বুঝে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি।

ধর্মীয় অবমাননা, পর্ণোগ্রাফীসহ যে কোনো অভিযোগ এই ঠিকানায় পাঠালে সংশ্লিষ্ট টিম গুরুত্বসহ বিষয়টি দেখেন। এবং প্রয়োজনে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারী ওয়েবসাইট ‘ধর্মকারী’ একইভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।

 

আট.

অনলাইনে নাস্তিকদের ধর্মীয় অবমাননার ব্যাপারে দায়িত্বশীল মহলের কাছে উলামায়ে কিরামের কয়েকটি দাবী আসতে পারে।

১. ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার জন্য তৈরীকৃত সকল ওয়েবসাইট ব্লক করা। এক্ষেত্রে উলামায়ে কিরাম খুঁজে খুঁজে ওয়েবসাইটগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারেন।

২. শুধু ব্লক নয়, চূড়ান্তভাবে এসব সাইট বন্ধের ব্যবস্থা করা। ব্লক করা হলে শুধু বাংলাদেশ থেকে ওয়েবসাইটগুলো দেখা বন্ধ হবে। কিন্তু বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশ থেকে ঠিকই সেগুলো দেখা যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে চূড়ান্তভাবে সাইটগুলো বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. এসব সাইটের উদ্যোক্তা ও ব্লগারদের দেশীয় আইনেই শাস্তি নিশ্চিত করা।

৪. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, ব্লগ ও ফোরাম পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পৃথক সেল করা। বর্তমানে এগুলো পরিচালনায় সরকার প্রণীত কোনো নীতিমালা নেই। বিভিন্ন সময়ে নীতিমালা প্রণয়নের দাবী উঠলেও বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সে দাবী মিটিয়ে দেয়া হয়েছে।

৫. এছাড়া পর্ণোগ্রাফীসহ অন্যান্য অপরাধমূলক ওয়েবসাইটও ব্লক করা। নতুবা নতুন প্রজন্মের চরিত্র বাঁচানোর কোনো উপায় থাকে না।

এছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে সীরাতের আলোচনা, সেমিনার, কনফারেন্স আয়োজন করা যেতে পারে। নাস্তিকদের এসব প্রচারে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাদের সীরাতের জ্ঞান খুব সীমিত।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ ফিৎনা মুকাবিলা করার তাওফীক দিন। আমীন।


প্রবন্ধটি রাহমানী পয়গাম, মার্চ ২০১৩ সংখ্যায় ভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত