তাবলীগ জামাত সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রশ্ন
প্রশ্ন : আস-সালামু আলাইকুম।অনেক ব্যস্ততার মাঝে কেমন আছেন ভাই?আর টিভি তে আপনের প্রোগ্রাম কেমন হচ্ছে ভাই,অনেক ইচ্ছা থাকা সত্বে ও দেখতে পারি না ৯-৬টা চাকুরির কারনে।দোয়া করি আল্লাহ তা’লা আপনাকে দীন ইসলামের বেশি বেশি খিদমত করার তওফিক দ্বীন।
অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের মত আমি তাবলীগ জামাতকে পছন্দ করি,কারন আমি ইসলামকে ভালবাসি।আমি চেষ্টা করি যখনই যেখান থেকে সুযোগ পাই ইসলাম থেকে জানতে যদি কেউ সহিহ সুন্নাহ-হাদিসের ভিত্তিতে কথা বলে।আমি তাবলীগ জামাতের সাথে মিশতে চাই কিন্ত ওদের অনেক জিনিষ আমার কাছে খটকা লাগে, তাই আমি আজ এসেছি কিছু তাবলীগ জামাতের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন নিয়ে।আমি জানি ভাই আপনি অনেক ব্যস্ত,কিন্ত আপনি যদি আপনার ব্যস্ততার ফাকে একটু সময় আমাকে দেন তাহলে আমার অনেক অনেক বড় উপকার হয়,আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে যে আমি পুরোপুরি তাবলীগের সাথে জড়াব কিনা।
Read Moreমিডিয়া সমালোচনা : শোলাকিয়া মক্কা নয়, হজ্জ্বও নয়
প্রিয় পাঠক! প্রথমে কালের কণ্ঠের আজকের ‘প্রিয় দেশ’ বিভাগের রিপোর্টটি পড়ুন। লিংক-ইউনিকোড | লিংক-ইপেপার ।
‘গরিবের মক্কা’ শোলাকিয়ায় এবারও বৃহত্তম ঈদ জামাত
এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। ১৮২৮ সাল থেকে শোলাকিয়ায় নিয়মিত ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সে হিসেবে এ মাঠে এবারের ঈদুল ফিতরের জামাত হবে ১৮৪তম। আসন্ন ঈদুল ফিতরের জামাত সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলছে এখন।কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরঘেঁষে উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদগাহ শোলাকিয়ার অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী এ মাঠে আড়াই শ বছর আগে থেকেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশ্বাস, এ মাঠে পরপর তিনটি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারলে একবার হজ পালনের ফল লাভ করা যায়। সে জন্য শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ‘গরিবের মক্কা’ নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশ্বাস থেকে বৃহত্তম ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখ লাখ মুসলমান এ ময়দানে সমবেত হন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন দেশের মুসলমানরাও আসেন এ মাঠে নামাজ পড়তে। শোলাকিয়ার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে শোলাকিয়া মাঠে একসঙ্গে এক লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ শোয়ালাখ মুসলি্ল ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই সোয়ালাখ থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা উচ্চারণ বিবর্তনে হয়েছে শোলাকিয়া। ২০১০ সালের ঈদ জামাতে রেকর্ড চার লাখেরও বেশি মুসলি্ল শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। গত বছরের মতো এ বছরও শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
সকাল ১০টায় ঈদের জামাত শুরু হলেও সকাল ৯টার মধ্যেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় শোলাকিয়া ময়দান। এ মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনটি, ৩ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি গুলি ছোড়া হয়।
বর্তমানে মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আর সদস্যসচিব হলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সদস্য সচিব নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান কমিটি কাজ করছে। মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়ন, মিডিয়া সেন্টার নির্মাণ, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণসহ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেঙ্ নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় নিরাপত্তার দিকটিও বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আমার বিশ্বাস, রিপোর্টার নিজের বিশ্বাসকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বলে নিজের অজান্তে চালিয়ে দিয়েছেন। নতুবা মুসলিম সম্প্রদায়ের কেউ এমন বিশ্বাস রেখে থাকলে তা নিতান্তই ভিত্তিহীন বিশ্বাস হবে।
শোলাকিয়া একটি ‘অর্ডিনারি’ মাঠ। খুব সাধারণ একটি জায়গা। অন্য দশটি জায়গার সাথে এর কোনো পার্থক্য নেই। এখানে ঈদের সালাত আদায় করারও বিশেষ কোনো ফযীলত নেই। কেবল একটি বিষয়, তা হলো, এটি একটি ঈদগাহ। ঈদের সালাত ঈদগাহে আদায় করার সাওয়াব বেশি। এজন্য সেই এলাকায় মসজিদের চেয়ে সেখানে ঈদের সালাত আদায় করার সাওয়াব বেশি হবে। তবে সেটা কাদের জন্য? কেবল সেই এলাকার লোকদের জন্য।
অন্য এলাকা থেকে কেউ সেখানে ঈদের সালাত আদায় করতে চাইলে কেবল এজন্য চাইবে যে, সেখানে বড় জামাত হয়। বড় জামাতের সাওয়াবও বড়। এছাড়া আর কোনো ফযীলত শোলাকিয়ার নেই।
শোলাকিয়া কখনোই ‘গরীবের মক্কা‘ হতে পারে না। গরীব, ধনী যে-ই হোক না কেন, মক্কা একটিই। শোলাকিয়ায় তিনবার ঈদের সালাত আদায় করা কখনোই হজ্জ্বের সমতূল্য নয়। হজ্জ্ব একটি নির্দিষ্ট জায়গায়, নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করতে হয়। গরীব, যার হজ্জ্বে যাওয়ার টিকিটের পয়সা, বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি নেই, তার ওপর তো হ্জ্জ্বই ফরয নয়। শোলাকিয়ায় গিয়ে বিকল্প হজ্জ্ব আদায় করবে কেন?
রিপোর্টটি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে থাকে (আশা করছি তেমনটি নয়, তবে নিউজের প্লেসিং এবং সেটিং দেখে তা-ই মনে হয়) এবং শোলাকিয়াকে বাণিজ্যিকীকরণের স্বার্থে একে ‘গরীবের মক্কা‘ টাইটেল দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দিবস, ব্যক্তি বিশেষ, আবেগ ঈত্যাদির বাণিজ্যিকীকরণের পর অবশেষে ধর্মীয় অনুভূতির বাণিজ্যিকীকরণ সত্যিই দু:খজনক।
যদি এটা অনিচ্ছাকৃত হয়ে থাকে, তাহলে দোয়া করি, আল্লাহ রিপোর্টারকে শুভ বুদ্ধি দান করুন। আমীন।
Read Moreইসহাক নন, ইসমাইলই (আ.) ছিলেন যাবীহ : একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা
ইব্রাহীম আ. কাকে যবেহের জন্য নির্দেশিত হয়েছিলেন, ইসমাইল নাকি ইসহাককে আ., সে প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। যদিও এক সামান্য ঘটনার কারণে এ প্রশ্নের জন্ম, তবু একটি ইমানী দায়িত্ব মনে করে, এটাকে সিরফ উড়িয়ে দেয়ার বিষয় মনে না করে সংক্ষেপে ব্যাপারটা খোলাসা করা ইচ্ছায় এ পোষ্টটি লিখলাম। আল্লাহ আমাদেরকে সন্দেহাতীত ইমান দান করুন। আমীন।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মাত্র এক জায়গায় ইব্রাহীম আ. এর জবেহের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। কাজেই এই আয়াতকে সামনে রেখে অন্যান্য আয়াতকে পর্যালোচনা করতে হবে। প্রথমে চলুন আয়াতটি দেখে নিই:
সূরা সাফফাতের ৯৯-১১৩ আয়াতসমূহ :
(وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَى رَبِّي سَيَهْدِينِ رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآَخِرِينَ سَلَامٌ عَلَى إِبْرَاهِيمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ وَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَاقَ نَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ وَبَارَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَى إِسْحَاقَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِنَفْسِهِ مُبِينٌ). [الصافات:99-113].
Read Moreমিডিয়া সমালোচনা : ফলকটি কেবল আরবিতেই নয়, কুরআনের আয়াতে লেখা
গত ২০ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠ আসাদ গেটের ফলকের লেখা নিয়ে একটি নিউজ করে। শিরোনাম ছিল ‘আসাদ গেটে এখনো উর্দু ফলক’। মিডিয়া ওয়াচ গত ১ মার্চের সংখ্যায় শেষ পৃষ্ঠায় নিউজটির সমালোচনা করে লিখে, ‘ফলকটি আরবিতে লেখা’। কিন্তু এই সমালোচনাটি অপূর্ণ মনে হচ্ছে আমার কাছে। আমি আরেকটু বাড়িয়ে বলতে চাই, ফলকটি কেবল আরবিতেই নয়, বরং, কুরআনের দুটো আয়াতের অংশবিশেষ দিয়ে লেখা। তার ওপর আয়াত দুটির অংশ দেশ ও জাতির জন্য দোয়া/প্রার্থনা সম্বলিত।
আয়াত দুটি হলো :
১. رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ (২:১২৬)
অর্থ : পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিময় কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর।
২. رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (২:১২৭)
অর্থ : পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।
কালের কণ্ঠের রিপোর্টটি আরবি ও আল কুরআন সম্পর্কে আমাদের সাংবাদিকদের অজ্ঞতার চিত্রই কেবল ফুটিয়ে তোলে। আমরা আশা করি, এ রকম সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিক বন্ধুরা আরো দায়িত্বশীল হবেন।
Read Moreমুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মঙ্গল কামনা করাই ইসলামের শিক্ষা
ব্লগার পাপ্রদজের প্রশ্নের সারাংশ হলো, অন্যান্য ধর্মের ন্যায় মুসলমানরা কি সমগ্র বিশ্বাবাসীর জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গল কামনা করতে আদিষ্ট নন, কিংবা, তাদের ধর্মগ্রন্থে কি তা নেই? যদি থাকেই, তাহলে সাধারণ মুসলমান না হোক, হুজুররাও কেন মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মঙ্গল কামনা করেন না?
তিনি এ বিষয়ে শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থের রেফারেন্সে বক্তব্য চেয়েছেন। বলেছেন, “আমি কোনো ধর্মীয় তর্কে যেতে চাই না, শুধু বিষয়টুকু কোরআন বা হাদীসের মতো মুসলিম ধর্মগ্রন্থে কি বলেছে সে বিষয়ে জানতে চাই। সাথে যদি আপনারা মুসলিম হিসেবে এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন সেটিও যদি বলেন, তাহলে খুশী হব।”
আমাদের উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মঙ্গল কামনা করে আল্লাহর নামে শুরু করছি। আপনার প্রশ্নের দুটো অংশ।
১. মুসলিম-অমুসলিম তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মঙ্গল কামনা করার ব্যাপারে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো কী বলে?
২. ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে মঙ্গল কামনা করার কথা বলা থাকলে ধর্মীয় পণ্ডিতদের/হুজুরদের আচরণে তার প্রতিফলন নেই কেন?
ইনশা’আল্লাহ আমরা আপনার প্রশ্নের উভয় অংশের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।
Read Moreইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকটি অপপ্রচারের জবাব
বি:দ্র: এই পোষ্টটি আইডি ফোরামে একটি লেখার জবাবে লেখা। মূল লেখকের বক্তব্যগুলো ইটালিক ও বোল্ড করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর জবাব দেয়া হয়েছে।
————————————
আপনি লেখাটা শুরু করেছেন ব্যান হবেন কিনা এই ভয়ে ভীত আপনি- তা বলে, যেন পাঠক প্রথমেই আপনার প্রতি সহমর্মী হয়ে উঠেন। এরপর একাত্তরের পাক বাহিনীর বর্বরতার ঘটনা শুনিয়ে পাঠকের অন্তরকে ইমোশনাল করে নিয়েছেন। যেন ইমোশনের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা সবরকম কথা সহজেই পাঠকের অন্তরে গুঁজে দিতে পারেন।
একাত্তরের ধর্ষণ আর পৈষাচিকতা আপনাকে ইসলামের ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করেছে; একাত্তরের ঘটনা পড়ে আপনি ইসলামের ইতিহাসের এক নতুন রূপ খুঁজে পেয়েছেন, যা ১৪০০ বছর ধরে মুসলিমরা আড়াল করে রেখেছিল।
Read More
Recent Comments