আমার ডায়েরি : ৩০/০৫/২০১১ : তরুণ আলেম বন্ধুরা! তোমরা কি হাঁটবে না পাশাপাশি? একসঙ্গে?
সেদিন এক মাদ্রাসার ছাত্র ফোন দিল। www.unaico.com সম্পর্কে প্রশ্ন তার। আমি কিছু সময় নিয়ে সাইটটি স্টাডি করে এর প্রফিট শেয়ার পদ্ধতিটি বোঝানোর চেষ্টা করলাম। সম্ভবত পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি সে।
এর কিছুদিন আগে। www.unipay2u.com সম্পর্কে প্রশ্ন করে একজন ই-মেইল পাঠালেন। তাকে আশ্বাস দিলাম, যথাশীঘ্র সম্ভব উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব। এখনো দেয়া হয় নি।
এই দুই ঘটনার মাঝে একদিন। চট্টগ্রাম থেকে এক ভাই মোবাইলে দীর্ঘ সময় নিয়ে আলাপ করলেন। তিনি www.forex.com এর লেনদেন সম্পর্কে জানতে চেয়ে অনেক তথ্য শেয়ার করলেন। আমি জানালাম, forex.com সম্পর্কে একটি প্রশ্ন আমার সাইটের মেইল বক্সে জমা পড়ে আছে। সাইটটিতে ডেমো একাউন্ট নিয়ে আমি অলরেডি রেজিস্টার্ড আছি। এর নানা দিক বোঝার চেষ্টা করছি।
গতকাল। আমার একজন প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মোবাইলে জানতে চাইলেন, ফেইসবুক কী? আমি জবাব দিলাম, একটি অনলাইন সমাজ। এখানে বন্ধু বানানো যায়, একে অপরের সাথে অনেক কিছু শেয়ার করা যায়। তারপর তিনি তাঁর কাছে আসা একটি প্রশ্ন শেয়ার করলেন, যাতে ফেইসবুক সম্পর্কিত কিছু বিষয় ছিল। আমি তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার মতামত শেয়ার করলাম।
বছর দুয়েক আগের কথা। আমি ইফতা শেষ করে সবে প্রফেশনাল লাইফে প্রবেশ করবো। নানা রকম প্রস্তাবনা সামনে থাকা সত্ত্বেও অনেক চিন্তা ভাবনা করে জামিয়াতুল আস’আদ আর শাবাকা সফটকে বেছে নিলাম। ব্যবসা-বাণিজ্যের ইসলামী সমাধান বুঝা ও বোঝানোর প্রয়োজনে জামিয়াতুল আস’আদের একটি ক্লাস, এবং অনলাইনে ইসলামের সেবার সুদূর স্বপ্নের জন্যে শাবাকা সফট।
তার কিছুদিন পর। আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা। সে বলল, ভাই সেদিন আপনার ব্যাপারে একজন প্রশ্ন করলেন। জানতে চাইলেন, আপনি কী করেন। আমি বললাম আপনার কথা। তিনি আফসোস করলেন, আহ! ছেলেটা হারিয়ে গেল।
সেদিন কথাটা খুব কষ্ট দিয়েছিল আমাকে। মনে আছে, ফেইসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম।
এর কিছুদিন পর। আমার এক ক্লাসমেটের সাথে দেখা। সেও প্রায় একই আফসোস প্রকাশ করল।
অনেকদিন পর। নভোথিয়েটারে প্রথম ‘আইটি সেমিনার’ আয়োজিত হলো। শেষ দিকে আমার স্বপ্নগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য দাঁড়ালাম। আবেগমাখা কণ্ঠে বললাম, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অধিকাংশ মাদ্রাসার ওয়েবসাইট হবে ইনশা’আল্লাহ। দশ বছরের মধ্যে প্রায় সব মাদ্রাসায় আইটি বিভাগের ক্লাস থাকবে এবং কম্পিউটার ল্যাব থাকবে ইনশা’আল্লাহ।
সবাই যখন সমস্বরে ‘ইনশা’আল্লাহ’ বলে উঠল, তখন চোখে পানি চলে আসল। আজ যে আমার স্বপ্ন সবার মাঝে ছড়িয়ে গেল। আমার জীবন স্বার্থক।
সেদিন বাসায় ফিরে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম, আল্লাহ, আজ তুমি আমায় নিয়ে গেলেও কোনো আফসোস থাকবে না। আলেমদেরকে প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা যে এখন অনেক.. আমার আর কী প্রয়োজন..
মাস দুয়েক পর। সিলেটে আইটি সেমিনার হলো। ঢাকার নভোথিয়েটারে দ্বিতীয় আইটি সেমিনারও হলো। একে একে স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে যেতে লাগল বিভিন্ন দিকে।
আজ বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের কাছ থেকে ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাই। অনেকে ব্যক্তিগত ব্লগের লিংক শেয়ার করেন। বিভিন্ন ইসলামী ওয়েবসাইটের লিংকও শেয়ার হয়। আনন্দে বলে উঠি, আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আর কেউ বলে না, ছেলেটা হারিয়ে গেছে। কারণ আমি হারিয়ে যাই নি। আমি কেবল বর্তমান সমাজের ভাষায় ইসলামকে তুলে ধরার এক অদম্য পিপাসায় কাতর হয়ে ছিলাম। এখনো আছি। ভবিষ্যতেও থাকব ইনশা’আল্লাহ।
আমার এ ডায়েরি আমার জীবনের গল্প নয়। নয় নিজের প্রচারনামাও। আমি কেবল বলতে চাচ্ছি, ইন্টারনেটে আলেমদের উপস্থিতি দুই বছর আগেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শুধু আমাদের পিছিয়ে থাকার কারণে আমরা হয়ত এর গুরুত্ব বুঝতে পারি নি। কিন্তু আজ যখন আমরা অনেকেই এ জগতে প্রবেশ করেছি, এখন ঠিকই এর গুরুত্ব আমাদের কাছে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।
গতকাল। RTV তে বিকেল ৪.১০ মিনিটে ‘প্রশ্নোত্তরে ইসলাম’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় অভিষেক হলো আমার। এটি সম্প্রচারিত হবে প্রতি শনিবার ও রবিবার, সরাসরি, একই সময়ে।
এবারও হয়ত অনেককে বলতে শুনব যে, ছেলেটা হারিয়ে গেছে। কিন্তু আমি এবারও হারিয়ে যাই নি, সত্যি বলছি। আমি এক দীর্ঘ স্বপ্ন নিয়ে পথ চলার চেষ্ট করছি। আমি চাই ‘আমরা’ যেন এগিয়ে যাই। আমি ‘একা’ এগুতে চাই না। তরুণ আলেম বন্ধুরা! তোমরা কি এই ‘আমরা’ শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে না? হাঁটবে না পাশাপাশি? একসঙ্গে?
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের স্বপ্নগুলো এবং আমাদের সকল আমল কবুল করে নিও। আমীন।
Read MoreJuma Bayan : Fatwa – What is it exactly? | জুমার বয়ান : ফাতওয়া আসলে কী?
বিবরণ : গত দুই বয়ানে সুন্নাহ সংকলনের ইতিহাস উঠে এসেছে। এই বয়ানে আমরা জানব কীভাবে রাসূল স. এর যুগে ও তৎপরবর্তী যুগে মানুষ তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেত। কীভাবে উত্তরদাতা উত্তর দিতেন। জানব ফাতওয়া শব্দটি কোথা থেকে এসেছে, এর অর্থ কী, ক্ষমতা কতটুকু। গ্রাম্য সালিসকে কি ফাতওয়া বলা যাবে? কেউ তা বাস্তবায়ন করলে তা কি ফাতওয়ার বাস্তবায়ন হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি।
স্থান : বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, মালিবাগ রেইলগেট, ঢাকা।
তারিখ : ০১/০৪/২০১১
অডিও :
Read Moreআমার ডায়েরি : ৩১/০৩/২০১১ : আমরা দিন দিন হৃদয়হীন নিষ্ঠুর পাথরে পরিণত হচ্ছি
ঘটনা ১ : রিকশায় করে জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়ায় যাচ্ছি। আমাকে বহন করা রিকশাটিকে পাশে থেকে একটি ভ্যান লাগিয়ে দিল। রিকশাচালক ভ্যানচালককে বলল, ‘বায়ে চাপতে পারলেন না’? ব্যাস। ভ্যানের পেছনে থাকা লোকটি এসে আমি বসা অবস্থায়ই রিকশাচালককে একটা লাথি মেরে দিল। সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের সামনের লোকটি এসে রিকশাচালককে আরেকটি লাথি মারল। আমি সিটে বসে এই যে থামানোর চেষ্টা করছি, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। লোকজন জড়ো হলো।
ভ্যানের লোক দুটো সবার চাপে পিছু হটল। ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হলো না। রিকশাচালক আমাকে রেখে তেড়ে গেল তাদের দিকে। ঘুষাঘুষি শুরু হয়ে গেল। এবার জোর করেই আমি ঘটনার ভেতরে ঢুকে পড়লাম। রিকশাচালকর হাত জোর করে চেপে ধরে টেনে আনলাম। আর লোকজনে ভ্যানচালকদের ঠেকালো। ঘটনা বাধ্য হয়ে শেষ হলো।
ঘটনা ২ : আমাদের বাসার পেছনে একটা বড় ডোবা। ডোবার পাশে আঁকাবাঁকা একটি পথ। খুব কম মানুষই হাঁটে এই পথ দিয়ে। এলাকার আড্ডাবাজ ছেলেদেরকে অনেক সময় এ পথে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়। সচরাচর মানুষের আনাগোনা নেই, তাই অনেকের কাছে নিরাপদ পথ এটি। রিকশা কখনো চলতে দেখি নি, চলা সম্ভব নয় বলেই জানতাম।
হঠাৎ গত সন্ধ্যায় এই পথে একজনের চিৎকার শুনলাম। জানালা দিয়ে তাকিয়ে ভালো করে শোনার চেষ্টা করলাম। শুনলাম, ‘ভাই, আমার রিকশায় করে কে এসেছেন? ভাড়া দেন।’ খুব চিৎকার করে বলছে এক ব্যক্তি। একবার, দু’বার নয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে এভাবে শুনছি তাকে। আমি বারান্দায় এসে তাকে ডাকলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, কী হয়েছে ভাই?
তিনি বললেন, দুই জন লোককে তিনি ঘন্টা হিসেবে দুপুর দুইটার সময় রিকশায় উঠিয়েছেন। (আমি যখন জিজ্ঞাসা করছি, তখন রাত সাড়ে নয়টা।) তারা গুলশান সহ অনেক জায়গায় ঘুরেছে। ভাড়া এসেছে ৫০০ টাকা। এই গলির মুখে রিকশা এনে তারা নেমেছে। বলেছে, চাচা আমরা ভাড়াটা পাঠিয়ে দিচ্ছি। এরপর গায়েব। আর আসে নি। এখন তিনি দিশেহারা।
আমি বললাম, চাচা, এই গলিতে তো লোকজন তেমন চলাচল করে না। ওরা নিশ্চয় আপনাকে রেখে চলে গিয়েছে।
লোকটা আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আবারো চিৎকার শুরু করলেন, ‘ভাই, আমার রিকশায় করে কে এসেছেন? ভাড়া দেন।’ এলাকার আরো কিছু লোক বের হয়ে আসল। বলাবলি করল, কেমন লোক, ৫০০ টাকা না হয় ৫০ টাকাও তো দিতে পারত..
ওদিকে তার সে কী কান্না..
জানি না কেন, আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। কল্পনা করছিলাম, দুপুর দুইটা থেকে নিশ্চয় তিনি কিছু খাননি। যখন তাদের নামিয়ে দিচ্ছেন, তখনো কল্পনা করছিলেন, আজ জমাটা ঠিক মতো দিয়ে বাড়িতে বাজার নিয়ে যেতে পারব। বাচ্চাগুলোর খরচ দেয়া যাবে। ইত্যাদি কত কিছু…
কিন্তু ওই নিষ্ঠুর লোক দুটো তাকে ঠকিয়ে চলে গেল।
লোকটা কাঁদছেই.. খুব জোরে..
আমি আবার বারান্দায় দাঁড়ালাম। বললাম, চাচা, বাসার সামনের দিক দিয়ে একটু আসেন। তিনি আসলেন। চোখ মুছতে মুছতে। খুব বয়স্ক। দেখে মায়া আরো বেড়ে গেল। আমি হাতে ‘তিন শত’ টাকা দিলাম। বললাম, ভবিষ্যতে এভাবে কাউকে ভাড়া ছাড়া যেতে দিবেন না। ভাড়া আদায় করে তবেই যেতে দিবেন। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
লোকটা কেঁদে দিল। দোয়া করল।
আমার কষ্টটা হালকা হলো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম, যিনি তাকে সাহায্য করার তাওফীক দিলেন।
—
রাসূল স. বলেছেন, একাধিক সূত্রে আছে,
اطيب الكسب كسب اليد
সবচেয়ে পবিত্র আয় হলো হাতের আয়।
অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রমের আয় সবচেয়ে হালাল ও পবিত্র। এ জন্যই আল্লাহ তা’আলা সব নবী-রাসূলকেই হাতের আয় দিয়ে জীবন শুরু করিয়েছেন। মেষ চড়ানো, লোহার বস্তু বানানো, কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করা.. ইত্যাদি নানা রকম হাতের কাজ দিয়ে তাদের আয়কে পবিত্র বানিয়েছেন।
এই রিকশাচালকদের দেখলে হাদীসটির কথা মনে পড়ে যায়। নি:সন্দেহে তাদের আয় সবচেয়ে হালাল। তাদের ভেতর দূর্নীতি নেই, বাটপারি নেই।
তাদেরও যদি কেউ ঠকায়, কাঁদায়, তাহলে তার পরকাল নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেই হয়।
আল্লাহ আমাদের হালাল আয় করার তাওফীক দিন এবং মানুষকে শ্রদ্ধা করার ও ভালবাসার তাওফীক দিন। আমীন।
Read Moreআমার ডায়েরি : ১৮/০৩/২০১১ : ভূমিকম্প, সুনামি, র্যাডিয়েশন লিকিংস.. সর্তক হওয়ার এখনি সময়..
যখনি ভূকম্পন আর সুনামির খবর, তখনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, ক্লাইমেট চেঞ্চ ইত্যাদি বিষয়গুলো বড় হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের নীত নির্ধারকেরা একটু নড়ে চড়ে বসেন। আবহাওয়াবিদরা রাত-দিন অফিস করেন। দেশের থিংক ট্যাংকদেরকে টক শো, মিষ্টি শোতে আনা হয়। নিউজ হয় পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ইত্যাদি সব মাধ্যমেই। অবশেষে দীর্ঘ গবেষণার পর আমরা জানতে পারি,
ইহা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল বলিয়া নিশ্চিত হওয়া গিয়াছে।আগামীতে এরূপ বড় কোনো ক্ষতি যেন না হইতে পারে, সে দিকে লক্ষ রাখিয়া পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হইবে।
আমাদের শিক্ষক মাওলানা মাহবুবে এলাহী সাহেব (রহ.), আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দিন, বলতেন, “আচ্ছা বলতে পারো? লোহাতে বাড়ি মারলে কীসের আওয়াজ হয়?” আমরা বলতাম, “ঝিন ঝিন।” কেউ বলত ঝুন ঝুন, টুন টুন, টিন টিন …. ইত্যাদি। তিন বলতেন, হয় নি। লোহা বাড়ি মারলে আওয়াজ হয়, যেই-সেই। মানে, আমি যেই রকম ছিলাম, সেই রকমই আছি।
তো, আমাদের অবস্থা এখন লোহার মতোই। আমরা দেখেও দেখি না, শুনেও শুনি না। যেই, সেই থাকি।
আল কুরআনের একটি আয়াত মনে পড়ে গেল। আল্লাহ বলেন,
هُوَ الَّذِي يُسَيِّرُكُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا كُنتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِم بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُوا بِهَا جَاءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِن كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ ۙ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ لَئِنْ أَنجَيْتَنَا مِنْ هَٰذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ – فَلَمَّا أَنجَاهُمْ إِذَا هُمْ يَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۗ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَىٰ أَنفُسِكُم ۖ مَّتَاعَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُكُمْ فَنُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে। (সূরা ইউনুস : ২২-২৩)
এই আয়াতদ্বয়ে মানুষের স্বভাব আল্লাহ তা’আলা খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। মানুষ যখন নিজের ‘যায় যায় অবস্থা’ লক্ষ্য করে, তখন আল্লাহকে ডাকে। তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। একেবারে নি:সার্থ ভাবে। একনিষ্ঠ ভাবে। ইখলাসের সাথে।
আবার যখন তিনি তাকে রক্ষা করেন, তখন তারা সেই আগের মতো হয়ে যায়। ঠিক লোহার মতো।
এদের প্রতি ইঙ্গিত করেই হয়ত আল্লাহ বলেছেন,
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ ۖ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ [٧:١٧٩]
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। (সূরা আল আ’রাফ : ৭)
চিন্তার বিষয় হলো, আল কুরআনে আল্লাহ তা’আলা যে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আযাব দেয়ার কথা বলেছেন, তাদের যুগে যদি বর্তমান মিডিয়া থাকত, তারাও সেগুলোকে নিছক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে চালিয়ে দিত। কিন্তু দুর্যোগের পরিচালক ‘প্রকৃতির’ পেছনে যে প্রকৃতির মহান স্রষ্টা আছেন, তা কি ভুলে থাকার অবকাশ আছে? এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করার কোনো যুক্তি আছে কি? পৃথিবীর সকল বিজ্ঞানী মিলেও কি একটি ছোট্ট দুর্যোগ থামিয়ে দিতে সক্ষম? ভেবে দেখুন তো?
Read Moreআমার ডায়েরি : ০৭/০২/২০১১ : আমাদের মিরাকল প্রীতি আর অবহেলিত আল-কুরআন
সেদিন এক ভাই ফেইসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করলেন। আমাকে বললেন, মন্তব্য করতে। ভিডিওটি দেখলাম। কাবা শরীফের ওপর এসে একজন ফেরেশতা (সাদা পাখি সদৃশ) বসেছেন। আবার কিছুক্ষণ পর উড়ে চলে গেছেন। ভিডিওটির ইন্ট্রোতে তাকে ফেরেশতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দর্শক ফেরেশতা দেখে সুবহানাল্লাহ বলছেন।
এর কয়েক দিন পর। বাসায় কে যেন একটা চটি বই দিয়ে গেছে। দুই টাকা দামের। এতে একজন মহিলার সাপ হয়ে যাওয়ার ‘সত্য ঘটনা’ বর্ণিত হয়েছে। লেখক নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। খুব আগ্রহ সহকারে বইটি পড়লাম। পড়ে মনে হলো, লোকটা আসলই অনেক বড় সাংবাদিক। এত বড় সাংবাদিক, এত বড় সাংবাদিক.. যে তার পরিবেশিত সংবাদ বোঝার মতো ক্ষমতা আমার হয় নি। কারণ কয়েকটি।
Read Moreআমার ডায়েরি : ২৫/১২/২০১০ : বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও যুব আলেমসমাজ’ শীর্ষক আলেমসমাজের প্রথম আইটি সেমিনার
সপ্তাহ দুয়েক আগের কথা। শফিক ভাইকে বলেছিলাম, আলেমদের জন্য একটা আইটি সেমিনার করতে চাচ্ছি। শফিক ভাই বলেছিলেন, আলেমরা আইটি বুঝে না। বাস ভাড়া দিলে কিছু ছাত্র আনা যেতে পারে। সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। বাস ভাড়া দিয়ে অডিয়েন্স আনাবো, এত নিম্নমানের সেমিনার করছি তাহলে!
শফিক ভাইকে আইডিয়াটা একটু একটু করে শুনিয়েছি মোবাইলে। ততদিনে অবশ্য আমার আইডিয়াটা পূর্ণাঙ্গও হয় নি। কেবল বিষয়গুলো কিছুটা ঠিক করেছি। আর কিছু আয়োজন নিয়ে অল্প কিছু লিখেছি। প্রতিদিন বাসে বসে যতটুকু সময় পাই, আমার নোকিয়ার নোটবুকে একটু একটু করে আইডিয়া নোট করি।
পরদিন শফিক ভাইকে আবার ফোন দিই। কোথায় হল ভাড়া নেয়া যায়, আলাপ করি। আমি সিরিয়াস। প্রচন্ড রকম। শফিক ভাই জানান, তিনি খোঁজ নিচ্ছেন। এরই মধ্যে হঠাৎ জানালেন, নভোথিয়েটারে সেমিনার হল আছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার করা যায়।
Read More
Recent Comments