গাজা! আমরা লজ্জিত!

গাজা! আমরা লজ্জিত! তোমরা যখন বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য মাত্র পনের সেকেন্ডের ওয়ার্নিং পাচ্ছিলে, আমরা তখন আয়েশ করে বিশ্বকাপের খেলা দেখায় ব্যস্ত ছিলাম। আজ যখন তোমরা ওয়ার্নিং ছাড়াই শহীদ হচ্ছো, আমরা তখন শপিংয়ে ব্যস্ত। আমরা লজ্জিত!

তোমরা যখন তিন মাসের সন্তানকে কাফনে জড়াচ্ছো, আমরা তখন সন্তানের তিন সেট ঈদের কাপড় কিনেও বসার সময় পাচ্ছি না, আরো কয়েকটা নিতে হবে, ঈদ চলে আসল বলে। তোমরা যখন সন্তানের বিধ্বস্ত মাথার খুলি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে লাশটা ঠিক করছো, আমরা তখন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছি, আর ঈদ নাটক-সিনেমার প্ল্যান করছি। আমরা লজ্জিত!

তোমাদের সন্তানরা যখন ছাদে খেলতে গিয়ে, কিংবা সমুদ্র তীরে দৌড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরে আসছে, আমরা তখন বেশ ভালোই আছি। তোমাদের আকাশে যখন নিক্ষিপ্ত বোমার আলো জ্বলে উঠছে, আমাদের এখানে তখন শপিং সেন্টারগুলোর চোখ ঝলসানো আলো ঝলমল করছে। আমরা বেশ ভালো আছি, ব্যস্ত আছি। আমরা লজ্জিত! এখন তোমাদের ব্যাপারে ভাবার সময় নেই।

গাজা! তোমাদের জন্য এসব আর নতুন কী! তোমরা তো এমন বোমা দেখেই বড় হয়েছ, বারুদের গন্ধ তো তোমাদের পরিচিতই। রক্ত আর লাশ তো তোমাদের অপরিচিত নয়! এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন তো তোমরা হরহামেশাই শোনো! হাসপাতালের বিছানা তো তোমাদের ঘরের বিছানার চেয়েও বেশি চেনা। জানাযা তো তোমাদের ওয়াক্তিয়া নামায। কান্না তো তোমাদের নিত্য দিনের কথা। তোমরা তো এগুলো জানই। আমরা এগুলো ভাবতে পারছি না, আমরা লজ্জিত!

গাজা! আমাদের ক্ষমা করো। আমরা চেষ্টা করছি কিছু সময় বের করে অন্তত কিছু দোয়া পাঠাতে। তাও যদি সময় হয়, যদি শপিংটা এর মধ্যে শেষ হয়। হুজুর বললেন, লাইলাতুল ক্বাদর শেষ দশের যে কোনো রাত্রিতে হতে পারে, কী সমস্যা! সাতাশের রাতটায় ভেবেছিলাম দোয়া করব! আচ্ছা দেখা যাক! আমাদের ক্ষমা করো, আমরা লজ্জিত!