ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি

 

ভূমিকা: ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস:

প্রাচীন যুগ থেকেই মানুষ একে অপরের সাথে বিভিন্ন সম্পদের বিনিময় করে আসছে। একজনের পণ্য অপরজনের পণ্যের বিনিময়ে আদান-প্রদান করে আসছে। তবে পণ্য দিয়ে পণ্য বিনিময় অনেক সময়ই কঠিন হয়ে যায়। সব পণ্যের জন্য সবসময় বিনিময়যোগ্য পণ্য খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

অপরদিকে সমাজের একটি শ্রেণীর কাছে প্রয়োজনের তুলনায় সম্পদ বেশি থাকে, আরেকটি শ্রেণীর কাছে কম থাকে। সম্পদশালী শ্রেণীটি একই সাথে বিশ্বস্ত হওয়ায়, মানুষও তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় তাদের কাছে জমা রাখতে শুরু করে। কখনো কখনো সঞ্চয় থেকে সম্পদ ওঠানোর প্রয়োজন হলে, সম্পদশালী শ্রেণীটি তাদেরকে সম্পদ দেয়ার পরিবর্তে সম্পদের জমা রশিদ হস্তান্তর করে। জমা রশিদটি যে-ই জমা দেবে, সম্পদটি তার কাছেই হস্তান্তর করা হবে, উদ্দেশ্য ছিল এমন। এই জমা রশিদই পরবর্তীকালে কাগুজে নোট হিসেবে প্রচলন পায়।

ওদিকে সম্পদশালী বিশ্বস্ত শ্রেণীটি তাদের কাছে জমাকৃত মূল সম্পদ অলস ফেলে না রেখে সেগুলো বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কাছে ঋণ দিতে শুরু করে। ঋণগ্রহীতারা তা দিয়ে ব্যবসা করে উদ্ভূত মুনাফা থেকে ঋণের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে শুরু করে। সম্পদশালী শ্রেণীটি সে সুদ থেকে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি সম্পদ জমাকারীদেরও একটি অংশ দিতে শুরু করে।

একটা পর্যায়ে সেই সম্পদশালী শ্রেণীটির মূল কাজ হয়, সমাজের এক শ্রেণীর সম্পদ জমা রেখে তার বিনিময়ে কাগুজে রশিদ লিখে দেয়া, এবং জমার বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয়া। অন্য দিকে অন্য একটি শ্রেণীর কাছে উক্ত সম্পদ সুদের বিনিময়ে ঋণ দেয়া। জমাগ্রহণ ও বিনিয়োগের সুদের হারের তফাৎটাই হয়ে ওঠে উক্ত শ্রেণীটির আয়ের উৎস।

পরবর্তীকালে কাগুজে নোট প্রচলন, সুদের বিনিময়ে জমা গ্রহণ ও সুদের বিনিময়ে বিনিয়োগ –মোটামুটি মৌলিক এই তিনটি কাজকে সুষ্ঠুভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে আঞ্জাম দিতে ব্যাংক ব্যবস্থার উদ্ভব হয়। এজন্যই অনেকে মনে করেন, ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান কাজই হলো ধার করা অর্থ অন্যকে ধার দেয়া।

ব্যাংকিং কার্যক্রমসমূহ তথা জমা গ্রহণ, ঋণ প্রদান, সম্পদ স্থানান্তর ইত্যাদি বহু আগেই শুরু হলেও ব্যাংকিংয়ে আধুনিক যুগের প্রবর্তন ১৪০১ খৃষ্টাব্দে ব্যাংক অব বার্সেলোনা প্রতিষ্ঠার পর থেকে। ১৬৯৪ সালে বিশ্বের প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘দি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশে ‘হিন্দুস্তান ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই ব্যাংকের আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। ১৭৮৫ সালে ‘দি সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৫ সালে সরকারী আইনবলে ভারতের প্রথম সুগঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে ‘দি রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠিত হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে ‘স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান’ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে কাজ আরম্ভ করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান’ –এর ঢাকাস্থ শাখাটিকে এক বিশেষ আইনবলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ নামে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবস্থা গতিময় হয়। [১]

 

ব্যাংকিং ও রিবা:

আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সাথে সুদের সম্পর্কে অত্যন্ত গভীর। সুদ ছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেন কল্পনাই করা যায় না। অথচ ইসলাম সুদ বা রিবাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। আল-কুরআনে আছে:

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿البقرة: ٢٧٥﴾ يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ﴿البقرة: ٢٧٦﴾

যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে: ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। [২:২৭৫] আল্লাহ তাআলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে। [২:২৭৬]

 

রিবা নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে আল-কুরআনে যেসব বিষয় উল্লেখ হয়েছে:

১. রিবা সমাজকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসৎ করে তোলে। সূরা রোমের ৩৭-৪১ নং আয়াতসমূহে তা স্পষ্ট।

২. রিবা অন্যায়ভাবে একজনের সম্পদ আরেকজনকে দেয়। সূরা নিসার ১৬০-১৬১ আয়াতদ্বয়ে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. রিবা সম্পদে পতনোন্মুখ বৃদ্ধি ঘটায়। সূরা বাক্বারার ২৭৬ নং আয়াতটিতে তা বুঝা যায়।

৪. রিবা মানুষের ব্যক্তিত্বকে খর্ব করে। সূরা বাক্বারার ২৭৫ নং আয়াতে তা স্পষ্ট।

৫. রিবা একটি জুলুম ও অন্যায়, ইনসাফপরিপন্থী। সূরা বাক্বারার ২৭৯ নং আয়াতে সে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। [২]

 

রিবা ছাড়াও ইসলামী অর্থনীতি আরো বেশ কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করে। যেমন:

১. গারার বা চুক্তিতে যে কোনো অনিশ্চয়তা বা ঘাপলা থাকা। যেমন, চুক্তির কোনো একটি বিনিময়ের অস্তিত্বই নেই, বা কোনো বিনিময়ের ব্যাপারে তথ্য অপূর্ণ থাকা, বা একাধিক চুক্তিকে মিলিয়ে বা অনাকাঙ্ক্ষিত শর্ত দিয়ে চুক্তিকে জটিল করে তোলা ইত্যাদি।

২. ক্বিমার বা জুয়া, যেখানে পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ ঝুঁকি নির্ভর। এবং একপক্ষের সম্পূর্ণ ক্ষতির বিনিময়ে অপরপক্ষ সম্পূর্ণ লাভবান হন।

৩. এমন খাতে বিনিয়োগ যেগুলো শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ। বা সামাজিক ও চারিত্রিকভাবে দূষণীয়। যেমন, সুদ, শুকর, অশ্লীলতা, জুয়া, মাদক, বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক ইত্যাদি।

এছাড়া একচেটিয়া ব্যবসা, সমাজের জন্য ক্ষতিকর গুদামজাত ইত্যাদিও ইসলাম নিষিদ্ধ করে। বিপরীতে জাকাতের প্রচলন ও সমাজের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ইসলাম নির্দেশ দেয়।

 

দর্শনগত দিক থেকেও ইসলামী অর্থনীতি ভিন্ন। অর্থনীতির তিনটি মৌলিক প্রশ্নে ইসলামের উত্তর অন্যসব প্রচলিত মতবাদের মতো নয়। কী উৎপাদন করা হবে, কীভাবে উৎপাদন করা হবে এবং কার জন্য উৎপাদন করা হবে – অর্থাৎ উৎপাদনগত সিদ্ধান্ত, ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্ত ও বন্টনগত সিদ্ধান্তেও ইসলামের দৃষ্টিকোণ ভিন্ন।

ইসলাম মনে করে মানুষের মৌলিক চাহিদা পাঁচটি বিষয়ের সুরক্ষা করা। এই পাঁচটি বিষয় যথাক্রমে: ধর্ম-দ্বীন ইসলাম, প্রাণ, মেধা-বুদ্ধি, বংশ ও সম্পদ। এই পাঁচটি বিষয় সুরক্ষায় যা না হলেই নয়, তা হলো অত্যাবশ্যক প্রয়োজন বা জারুরাহ। যা হলে একটু উন্নত হয়, তা স্বাভাবিক প্রয়োজন বা হাজাহ। আর যা হলে আরো উন্নত ও সুবিধাজনক হয়, তা উন্নতিসাধক বা তাহসীনিয়্যাহ।

যেমন, একটি ফাঁকা জায়গা। এতে মোটামুটি দেয়াল তোলা, দরজা-জানালা, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হলো জারুরাহ। প্লাস্টার করা, ফ্লোর ফিনিসিং দেয়া হলো হাজাহ। আর রং করা, এসি লাগানো ইত্যাদি হলো তাহসিনিয়্যাহ।

জারুরাহ, হাজাহ বা তাহসীনিয়্যাহ – ব্যক্তি ও সমাজের ভিন্নতায় ভিন্ন হতে পারে। তবে মৌলিক বিষয়টা একই। ইসলাম ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকরণ নির্ধারণে এ ধারাক্রম অনুসরণের পরামর্শ দেয়। অনুরূপভাবে মৌলিক চাহিদার পাঁচটি বিষয়ের জন্য ক্ষতিকারক কোনো কিছুর অনুমতি ইসলাম দেয় না।

কাজেই একজন মুসলিম হিসেবে ইসলামী অর্থনীতি চর্চার বিকল্প নেই। ব্যাংক ব্যবস্থার উদ্ভব যেহেতু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল করার লক্ষ্যেই, তাই ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

 

ইসলামী ব্যাংকিং ইতিহাস ও অগ্রযাত্রা:

রাসূলুল্লাহ স. এঁর আগমনের মধ্য দিয়ে আরবে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। জাহিলিয়্যাতের নানা প্রথা ও অন্যায় ত্যাগ করে ইসলাম নামক ইনসাফের ছায়াতলে আসে মানুষ।

রাসূলুল্লাহ স. শৈশব হতেই আল-আমীন বলে পরিচিত ছিলেন। মানুষ তাঁর কাছে সম্পদ জমা রাখত, এবং প্রয়োজনে উঠিয়ে নিয়ে যেত। রাসূল স. নিজে বিবাহপূর্ব সময়ে উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা রা. এঁর সম্পদ মুদারাবার ভিত্তিতে গ্রহণ করেন এবং তা দিয়ে বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা করে বিপুল মুনাফাসহ মূলধন ফিরিয়ে দেন।

আরবদের মাঝে মুদারাবা ছাড়াও মূলধনভিত্তিক অংশীদারি ব্যবসা প্রচলিত ছিল। রাসূল স. বাইয়ে সালামের অনুমোদন দেন, যা মূলত পণ্য বাকীতে প্রদানের একটি চুক্তি। তো, এ সবকিছুই ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যাবলীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্চা ছিল।

সাহাবীদের যুগে হযরত যুবাইর বিন আওয়াম রা. এঁর কথা উল্লেখযোগ্য। মানুষ তাঁর কাছে অর্থ জমা রাখত। তিনি আমানত হিসেবে সেগুলো না নিয়ে ঋণ হিসেবে নিতেন, ফলে সেগুলো বিনিয়োগের সুযোগ থাকত। আবার প্রয়োজনে জমাকারীরা তা উত্তোলন করতে পারতেন। ইবনে আব্বাস রা. ও দিরহাম জমা গ্রহণ করে কুফায় তা ভাঙানোর স্বীকারপত্র লিখে দিতেন।

ইসলামের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রায় হাজার বছর ধরে ইসলামী অর্থনৈতিক চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে মুসলিমদের নেতৃত্ব অব্যাহত ছিল। ইমাম আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ আশ শাইবানী, আবু উবায়দ কাসিম ইবনে সাল্লাম, ইমাম গাযযালী, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে খালদুন ও শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এঁর অর্থনৈতিক চিন্তা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। [৩]

আধুনিককালে ষাটের দশকে মুসলিম দেশগুলোর তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মুসলিমদের হাতে প্রচুর ধনসম্পদ চলে আসে। তারা তাদের সম্পদ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামের আলোকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের কথা ভাবেন। এছাড়া শত শত বছরের উপনিবেশবাদ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মুসলিম দেশগুলো ইসলামের আলোকে ভিন্ন অর্থনৈতিক চিন্তা শুরু করে। সত্তরের দশক থেকে মোটামুটি ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থা ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে থাকে।

 

এক নজরে ইসলামী ব্যাংকিং বিকাশের ইতিহাস:

  • ষাটের দশক: ১৯৬৩: মিট গামার লোকাল সেভিংস ব্যাংক, মিশর; মুসলিম পিলগ্রিমস সেভিং কর্পোরেশন, মালয়েশিয়া।
  • সত্তরের দশক: ১৯৭১: নাসের সোশাল ব্যাংক, মিশর। ১৯৭৫: ইসলামিক ডেলেভপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জেদ্দা; দুবাই ইসলামী ব্যাংক, দুবাই। ১৯৭৭: ফয়সাল ইসলামী ব্যাংক, সুদান। ১৯৭৯: বাহরাইন ইসলামী ব্যাংক, বাহরাইন।
  • আশির দশক: ১৯৮২: আল বারাকা। ১৯৮৩: ব্যাংক ইসলাম মালয়েশিয়া; ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ; কাতার ইসলামী ব্যাংক। ১৯৮৪: দারুল মাল ইসলামিক ট্রাস্ট, জেনেভা। ১৯৮৯: এ.এন.জি গ্লোবাল ইসলামিক ফাইন্যান্স, ইউকে।
  • নব্বইয়ের দশক: ১৯৯১: বাহরাইনভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন মানদণ্ড (শরীয়াহ, হিসাব ও নিরীক্ষা) প্রণয়নকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘আওফি’ প্রতিষ্ঠা।  ১৯৯৩: ইসলামিক ব্যাংক অব ব্রুনেই।
  • সমকালীন: ২০০৩: ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনকেন্দ্রিক মানদণ্ড প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বোর্ড (আই.এফ.এস.বি)’, মালয়েশিয়া। ২০০৬: ইসলামী অর্থনীতির আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইনসেইফ’। [৪]

এছাড়া ১৯৭৮ সনে পাকিস্তান ও ১৯৭৯ সনে ইরান তাদের সমগ্র ব্যাংকব্যবস্থাকে ইসলামীকরণের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। [৫]

মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে অনেক অমুসলিম দেশও ইসলামী ব্যাংকিয়ের দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০০৭-০৮ এর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দায় ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থিতাবস্থা তাদেরকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে উদ্বুদ্ধ করছে।

বর্তমানে ইসলামিক ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী মোট বাজার প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার। [৬] ২০১১ তে তা ছিল মাত্র ১.০৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারের। ২০১৪ –র শেষ নাগাদ তা ১.৮ ট্রিলিয়নে পৌঁছুবে বলে আশা করা যায়। বাৎসরিক বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭৫টি দেশে হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান ইসলামী অর্থ ব্যবস্থাপনার কাজ করছে। [৭]

২০১০ এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ইউকে, জার্মানি, ফ্রান্স, মাল্টা, জাপান, সিঙ্গাপুর, হংকং ও সাউথ কোরিয়া ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠার অনুকূলে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে, বা করেছে। তন্মধ্যে কোনো কোনো দেশ ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং শুরু করেছে। কোনোটি আইন পাশ করেছে। [৮]

 

এক নজরে ২০১৩ তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামিক ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা:

  • মালদিভস: ছোট দেশ। জনসংখ্যা চার লাখের কিছু বেশি। মুসলিম ৯৮.৪৪%। ২.৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠা পায় মালদিভস ইসলামী ব্যাংক। প্রথম সুকুক (বন্ডের শরয়ী বিকল্প) ইস্যু হওয়ার পথে। বলা যায়, ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
  • শ্রীলংকা: মোটা ব্যাংক ২৮টি। মোট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৬টি। প্রথম ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা পায় ২ বছর আগে। বড় ব্যাংকগুলো ইসলামিক উইন্ডো খুলছে।
  • ব্রুনাই: ওআইসির সবচেয়ে ছোট দেশ। ১৯৯০ এ ইসলামিক ফাইন্যান্সের শুরু। ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ইসলামিক। এবং এটাই সবচেয়ে বড়। ব্যাংক ইসলাম ব্রুনাই দারুস সালাম। ইসলামিক ফাইন্যান্সের বাজার ৩০ শতাংশের বেশি। প্রথম সুকুক ২০০৩ এ ইস্যু করা হয়। সরকার ইসলামিক ফাইন্যান্সের ওপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স রেগুলেটরির জন্যও প্রতিষ্ঠান করেছে, পলিসি করেছে। মজার ব্যাপার হলো, অন্য দেশের মতো এখানে সরকারের সুকুক ইস্যু করার প্রয়োজন নেই। বরং সরকারের কাছে প্রচুর অতিরিক্ত ফান্ড রয়েছে, যা সঠিক খাতে বিনিয়োগের অপেক্ষায়।
  • তুরস্ক: ৪৯ টি ব্যাংক। তন্মধ্যে কেবল ৪টি ইসলামিক। ইসলামিক ফাইন্যান্সের মার্কেট শেয়ার ৫%, আর ক্যাপিটাল শেয়ার ৪% মাত্র। ১৯৯০ এ ইসলামিক ব্যাংকিং শুরু হয়। সুকুক প্রথম ইস্যু হয় ২০১০ এ। এ পর্যন্ত মাত্র দশটির মত সুকুক ইস্যু হয়। উল্লেখ্য, তুরস্কে ইসলামী ব্যাংককে বলা হয় পার্টিসিপেটরি ব্যাংক বা অংশীদারি ব্যাংক।
  • জাপান: মূলত এনার্জি ইম্পোর্টের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আর এসব তেল ও গ্যাস আসে ইসলামিক দেশসমূহ থেকে। কাজেই এখানে ইসলামিক প্রোজেক্ট ফাইন্যান্সের সুযোগ অনেক। সম্প্রতি ইজারা ও ইস্তিসনার ভিত্তিতে একটি ২৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সুকুক ইস্যু করা হয়।
  • কাজাখিস্তান: একটি মাত্র ইসলামী ব্যাংক। আল হিলাল।
  • ইরান: মোট এ্যাসেট ৫০০+ মিলিয়ন ইউএস ডলার। বিনিয়োগ মোডসমূহ:  মুশারাকা ৩৯%, ইন্সট্রুমেন্ট সেল: ২৯% এবং কারদ: ৫%। ইরানের কিছু বৈশিষ্ট্য: সবগুলো ইসলামিক ব্যাংক; রিবামুক্ত ব্যাংকিং আইন ১৯৮৩; বাইয়ে দাইন নিষিদ্ধ (মালয়েশিয়ায় চলছে); একটি মাত্র শরীয়াহ বোর্ড, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে; তবে এখনো কোনো আন্তর্জাতিক শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না।
  • আফ্রিকায় খুব ধীর গতিতে ইসলামিক ফাইন্যান্স আগাচ্ছে। মরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সাউথ আফ্রিকা, উগান্ডা প্রভৃতি দেশে আশা সঞ্চার করছে।
  • ইউরোপে ইসলামিক ফাইন্যান্স: ইউরোপের ছোট দেশ লুক্সেমবার্গ। ইউরোপে যাকে ইসলামিক ফাইন্যান্সের হাব বা চক্রকেন্দ্র বলা চলে। ১৯৭৮ এ প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখানে অনুমোদন পায়। ১৯৮৩ তে প্রথম ইউরোপিয়ান দেশ হিসেবে শরীয়াহ অনুসৃত ইনস্যুরেন্স (তাকাফুল) কোম্পানি প্রতিষ্ঠা পায়। ২০০২ এ প্রথমবার লুক্সেমবার্গ স্টক এক্সচেঞ্জে শরীয়াহ অনুসৃত সুকুক তালিকাভুক্ত হয়। ২০০৯ এ প্রথম ইউরোপিয়ান হিসেবে লুক্সেমবার্গ সেন্ট্রাল ব্যাংক আইএফএসবি [৯] এর সদস্য হয়। এরপর বর্তমান পর্যন্ত শরীয়াহ সুকুক ইস্যুকরণের গাইডলাইন প্রণয়ন ইত্যাদির মাধ্যমে আরো সামনে এগিয়ে যায়। [১০]

গত ২৯-৩১ অক্টোবর ২০১৩ লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরামের নবম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। এই প্রথম মুসলিম বিশ্বের বাইরে ইউরোপে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন তার উদ্বোধনী বক্তব্যে দুবাই ও কুয়ালা লাম্পুরের পাশাপাশি লন্ডনকে ইসলামিক ফাইন্যান্সের অন্যতম রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ব্রিটেনে ২৫ টি ল’ ফার্ম রয়েছে, যারা ইসলামিক ফাইন্যান্স সার্ভিস দিচ্ছে। ১৬টি ইউনিভার্সিটি বা বিজনেস স্কুল রয়েছে, যারা ইসলামিক ফাইন্যান্স বা সমমানের বিষয়ের ওপর এমবিএ করার সুবিধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ইসলামিক ফাইন্যান্স যখন ট্র্যাডিশনাল (কনভেনশনাল) ফাইন্যান্স থেকে ৫০% বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট ২০১৪ তে যখন ১.৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ড ছুঁতে যাচ্ছে, তখন আমরা চাই ব্রিটেনে এর একটি বড় অংশ ইনভেস্ট হোক।

তিনি জানান, মুসলিম বিশ্বের বাইরে এই প্রথম ব্রিটেন সোভরেইন সুকুক (সরকারী বন্ডের ইসলামী বিকল্প) ইস্যু করার ঘোষণা দিচ্ছে। ২০১৪ এর শুরুর দিকে পরিকল্পিত এই ইস্যুটির মোট মূল্য হবে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড (বা ৩২০ মিলিয়ন ডলার)। এছাড়া লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ঘোষণা দিচ্ছে ইসলামিক মার্কেট ইনডেক্স চালু করার, যেন ইসলামিক ইনভেস্টররা সহজে জেনে নিতে পারে কোনটি ইসলাম অনুসৃত ইনভেস্টের জায়গা, কোনটি নয়। [১১]

 

ইসলামী ব্যাংকিং কার্যাবলী ও ইসলামী মোডসমূহ:

যে কোনো আর্থিক বাজারের মূল কাজ হলো সম্পদ সঞ্চয়ীদের হাত থেকে সম্পদ গ্রহণ করে উদ্যোক্তাদের হাতে তা তুলে দেয়া। এ কাজটি দুইভাবে হতে পারে। প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে। প্রত্যক্ষভাবে তা হয়ে থাকে দেশের স্টক মার্কেটের মাধ্যমে। যেখানে উদ্যোক্তা কোম্পানির তাদের প্রয়োজনীয় মূলধনের জন্য শেয়ার ছাড়ে, এবং বিনিয়োগে আগ্রহীরা শেয়ার ক্রয় করেন। ফলে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের হাত থেকে উদ্যোক্তাদের হাতে মূলধন পৌঁছে যায়। একইভাবে এখানে বন্ড ও ঋণপত্রেরও ক্রয়-বিক্রয় হয়। মোটকথা এখানে সরাসরি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর সংযোগ ঘটে।

আর পরোক্ষভাবে হয়ে থাকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ জমা নেয়। পরে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে তা উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেয়। এ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বলা যায়।

ইসলামী ব্যাংকগুলোও একইভাবে এক শ্রেণীর কাছ থেকে অর্থ জমা গ্রহণ করে। অপর শ্রেণীর কাছে তা তুলে দেয়। সে হিসেবে ফান্ড সংগ্রহ ও ফান্ড ব্যবহার – এই দুটি কাজই ইসলামী ব্যাংকের মূল কাজ। এছাড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ফান্ড পাঠানো, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদি তো আছেই।

সাধারণত ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক রকম হিসাবে ফান্ড সংগ্রহ করে থাকে। সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদী। চলতি হিসাবের সারকথা হলো, গ্রাহক যখন ইচ্ছে তখন টাকা তুলতে পারবে, এবং এতে কোনো মুনাফা দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো কারযে হাসানা বা ওয়াদীয়াহ চর্চা করে থাকে। যেন গ্রাহক ব্যাংককে কারযে হাসানা দিচ্ছে, বা টাকাগুলো ওয়াদিয়াহ হিসেবে রাখছে।

সঞ্চয়ী হিসাবটা অনেকটা চলতির মতোই, তবে গ্রাহক বড় অংকের জমা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাংককে অবহিত করে নেয়। আর মেয়াদী হিসাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জমা রাখে, এর মধ্যে সাধারণত উত্তোলন করা হয় না। এ দুটো ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো মুদারাবা ব্যবহার করে থাকে। অর্থাৎ গ্রাহক এখানে রাব্বুল মাল বা বিনিয়োগকারী, আর ইসলামী ব্যাংকগুলো মুদারিব বা উদ্যোক্তা। ব্যাংক পুনরায় তা বিনিয়োগ করে ব্যবসা করে মুনাফার নির্দিষ্ট হার গ্রাহককে দিবে।

ফান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক রকম ব্যবহার প্রচলিত আছে। সাধারণ গ্রাহকরা সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতে অর্থ নিয়ে থাকে। যেমন, বাড়ি কেনা বা নির্মাণের জন্য। বাড়ী কেনার প্রয়োজনে কেউ অর্থ চাইলে ইসলামী ব্যাংকগুলো তার সাথে মুরাবাহা মুয়াজ্জালাহ চুক্তি করতে পারে। মুরাবাহা হলো ক্রয়মূল্য বা খরচ ও মুনাফার পরিমাণ উল্লেখপূর্বক বিক্রয় করা। আর মুয়াজ্জালাহ মানে মেয়াদী বিক্রয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে ক্রয়মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক প্রথমে বাড়িটি নিজের নামে ক্রয় করে ও হস্তগত করে। অত:পর গ্রাহকের কাছে খরচ উল্লেখপূর্বক অতিরিক্ত মূল্যে ও মুনাফায় তা বিক্রয় করে। গ্রাহক তা কিস্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদে পরিশোধের সুবিধা পায়।

মুরাবাহা ছাড়াও এখানে ডিমিনিশিং (ক্রমান্বয়ে হ্রস্বীকৃত) মুশারাকা ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতির সারকথা হলো, বাড়িটি প্রথমে ব্যাংক ও গ্রাহকের যৌথ মালিকানায় কেনা হয়। অত:পর গ্রাহক ক্রমান্বয়ে ব্যাংকের অংশ ক্রয় করতে থাকে, এবং ব্যাংকের যে অংশ সে ব্যবহার করছে, তার বিনিময়ে পূর্ব নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে থাকে। গ্রাহকের মালিকানা একশ শতাংশ হয়ে গেলে বাড়িটি সম্পূর্ণ গ্রাহকের মালিকানায় চলে যায়। এ পদ্ধতিটির আরেকটি ব্যবহারও আছে। সেটি হলো, গ্রাহক প্রতি কিস্তিতে ব্যাংকের অংশের ভাড়া পরিশোধ করে যায়, তবে মালিকানা বৃদ্ধি পায় না। এভাবে একটি পর্যায়ে এসে ব্যাংক নামমাত্র মূল্যে গ্রাহকের কাছে তা বিক্রয় করে। এ পদ্ধতিটিকে এইচ.পি.এস.এম বা হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলকও বলা হয়।

বাড়ী নির্মাণের প্রয়োজনে অর্থ লাগলে ইস্তিসনা চুক্তি করা যায়। এক্ষেত্রে ব্যাংক হবে সানি বা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক মুস্তাসনি বা বাড়ীর মালিক। ব্যাংক পুনরায় কোনো ডেভেলপার কোম্পানির সাথে ইস্তিসনা চুক্তি করবে, সেখানে ডেভেলপার কোম্পানি হবে সানি’ আর ব্যাংক মুস্তাসনি। অত:পর ব্যাংক সেই প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ ছাড় করবে এবং চুক্তির সময় অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান ব্যাংককে বাড়িটি বুঝিয়ে দিবে। তারপর ব্যাংকও গ্রাহককে তা বুঝিয়ে দিবে। এবং প্রথম চুক্তি অনুযায়ী, যা ব্যাংক ও গ্রাহকের মাঝে হয়েছে, গ্রাহক কিস্তিতে ব্যাংককে ইস্তিসনার মজুরী পরিশোধ করবে।

বাড়ী নির্মাণ ছাড়া সাধারণ গ্রাহক গাড়ী কেনার জন্য অর্থ চেয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সাধারণত মুরাবাহা ব্যবহার করা হয়। কোথাও এইচ.পি.এস.এমও ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া অন্য সকল খাতকে (শিক্ষা, চিকিৎসা) ব্যক্তিগত অর্থায়ন বলা যায়। সুদী ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ঋণ প্রদান করতে পারে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকগুলোর এ ক্ষেত্রে কারযে হাসানা (সুদবিহীন ঋণ) দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সাধারণ ইসলামী ব্যাংকগুলো এতে উৎসাহী হয় না।

তবে মালয়েশিয়া এক্ষেত্রে তাওয়াররুক ও বাই ইনাহ ব্যবহার করে থাকে। বাই ইনাহ একটি সাজানো ক্রয়-বিক্রয়। যেখানে বিক্রেতা ক্রেতার কাছে একটি পণ্য বিক্রয় করে। এরপর ক্রেতা অধিক মূল্যে বিক্রেতার কাছে তা বিক্রয় করে। আসলে এটি ঋণের বিনিময়ে ঋণ, যার একটি পাশে অতিরিক্ত থাকে, আর এটাই সুদ। বাই ইনাহর হারাম হওয়ার ব্যাপারে মুসলিম উম্মায় তেমন কোনো মতপার্থক্য নেই।

তাওয়াররুক প্রাথমিকভাবে মুরাবাহার মতো। এর সারকথা হলো, ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য একটি মূল্যে বাকীতে ক্রয় করার পর অতিরিক্ত মূল্যে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে নগদে বিক্রয় করে। ক্রেতার নগদ টাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়, যা সে মূল বিক্রেতাকে কিস্তিতে পরিশোধ করে। ইনাহ’র সাথে এর মূল পার্থক্য হলো, দ্বিতীয় বিক্রয়টি বিক্রেতাভিন্ন তৃতীয় ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত হয়।

ক্রেতার দ্বিতীয় বিক্রয় যদি সাজানো না থাকে, এবং এটি যদি কোনোভাবেই প্রথম বিক্রেতার কাছে পণ্য ফেরত পৌঁছানোর উদ্দেশে না হয়, তাহলে এর বৈধতার পক্ষে মত আছে। তবে সাজানো হলে বা প্রথম পক্ষের কাছে পণ্য ফেরত পৌঁছানো এবং নিছক ঋণের বিনিময় উদ্দেশ্য হলে অনেকেই একে ইনাহ’র মতো হারাম গণ্য করেন। [১২]

তাওয়াররুক ও ইনাহ ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মালয়েশিয়াতে সুদী ব্যাংকগুলোর প্রায় সব লেনদেনেরই বিকল্প রয়েছে। তবে মুসলিম দেশগুলোর আপত্তির কারণে দেশটি সম্প্রতি বেশ কিছু পরিবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ব্যক্তিগত খাত ছাড়া সরকার, বড় কোম্পানি ও বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রয়োজন মতো শরীয়াহর আলোকে বিনিয়োগ উপায় উদ্ভাবন করে বিনিয়োগ করে থাকে। এজন্য স্বতন্ত্র বিভাগ রয়েছে, যারা শরীয়াহ বিভাগের সাথে আলোচনা করে কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা, মুদারাবা, মুশারাকা, সালাম বা ইস্তিসনার ব্যবহার হয়ে থাকে। আর আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সালাম বা ইস্তিসনা, নতুবা মুরাবাহার ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে।

তবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল চেতনা মুদারাবা-মুশারাকার মাঝে। যেখানে উভয় পক্ষ বিনিয়োগ করবে, বা এক পক্ষ বিনিয়োগ করবে এবং অপরপক্ষ তা ব্যবস্থাপনা করবে। মুনাফা উভয় পক্ষের মাঝে পূর্ব নির্ধারিত হারে বন্টিত হবে। আর ক্ষতি হলে প্রত্যেক পক্ষ মূলধন বিনিয়োগের হার অনুযায়ী তা বহন করবে।

মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মিথ্যা ও খেয়ানতের ছড়াছড়ি, ইত্যাদি নানা কারণে বিশ্বব্যাপী এখনো মুদারাবা-মুশারাকার ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্য করা যায় না। তবে আলোচনা চলছে, সচেতন বাড়ছে, গবেষণা হচ্ছে। আশা করা যায় সেদিন বেশি দূরে নেয় যেদিন মুদারাবা ও মুশারাকাই হবে যে কোনো বিনিয়োগে সর্বাধিক ব্যবহৃত পদ্ধতি।

 

প্রশাসন, আইন ও নিয়ন্ত্রণ:

বিশ্বের মাত্র দুটি দেশে, ইরান ও সুদানে, সম্পূর্ণ ইসলামী ব্যাংকিং আইন ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইসলামী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ সেখানে নেই। এছাড়া অন্য সকল দেশে ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি সুদী ব্যাংকও পরিচালিত হয়। তাই সুদভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ভিন্নভাবে পরিচালনার জন্য পৃথক ইসলামী ব্যাংকিং আইনের প্রয়োজন।

মালয়েশিয়ায় ১৯৮৩ সনে ইসলামিক ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন করা হয়। ১৯৮৪ তে তাকাফুল আইন করা হয়। এছাড়া সেন্ট্রাল ব্যাংক অব মালয়েশিয়া অ্যাক্ট ২০০৯ -এ ইসলামী অর্থব্যবস্থার সপক্ষে বেশ কিছু ধারা যুক্ত করা হয়। তন্মধ্যে শরীয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী কর্তৃপক্ষ ঘোষণা প্রদান অন্যতম। [১৩]তাছাড়া মালয়েশিয়ায় সরকারী পর্যায়ে দুটো শরীয়াহ কাউন্সিল আছে। একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক – ব্যাংক নেগারায়। অপরটি এসইসি বা সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনে। আবার কোর্টে মুয়ামালাত ডিভিশন আছে। যারা শরীয়াহ অনুযায়ী মুয়ামালাতের মামলাগুলো দেখেন। [১৪]

ইসলামী ব্যাংকিংয়ে শরীয়াহ বিভাগের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীয়াহর আলোকে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করাই এ বিভাগের মূল দায়িত্ব। যে কোনো প্রোডাক্ট বা পদ্ধতি উদ্ভাবনের শুরু থেকে প্রোডাক্টটির ডকুমেন্টেশন ও বাজারজাতকরণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে শরীয়াহ রিভিউ, ও বাৎসরিক শরীয়াহ রিভিউ এ বিভাগ করে থাকে।

ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে শরীয়াহ সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় বাহরাইনভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন মানদণ্ড (শরীয়াহ, হিসাব ও নিরীক্ষা) প্রণয়নকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘আওফি’। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এর শরীয়াহ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে জাস্টিস মুফতী তাকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ।  বিশ্বের ৪৫ দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান আওফির সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, আইনি পরামর্শের প্রতিষ্ঠান, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

এ পর্যন্ত মোট ৮৮টি স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ড প্রণয়ন করেছে আওফি। তন্মধ্যে ৪৮টি শরীয়াহ, ২৬টি নিরীক্ষা, ৫টি হিসাব, ৭টি প্রশাসন ও দুটি নৈতিকতা সম্পর্কিত। নতুন মানদণ্ড প্রণয়ন করা ছাড়াও পুরনো মানদণ্ডসমূহ রিভিউ করে যথাযথ পরিবর্তন এনে থাকে আওফি। [১৫]

মানদণ্ড প্রণয়ন ছাড়াও শরীয়াহ বিষয়ক জ্ঞানের জন্য সার্টিফাইড শারিয়াহ এডভাইজর এ্যান্ড অডিটর (CSAA) ও সার্টিফাইড ইসলামিক প্রফেশনাল একাউন্টেন্ট (CIPA) নামক দুটি কোর্স পরিচালনা করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। [১৬]

আওফির পাশাপাশি মালয়েশিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বোর্ড (আইএফএসবি, প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৩) ইসলামী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মানদণ্ড প্রণয়ন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মোট ১৫টি মানদণ্ড প্রকাশ করেছে। [১৭]

আইএসবি ছাড়াও মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্য আরো দুটো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১. ইন্টারন্যাশনাল শারিয়াহ রিসার্চ অ্যাকাডেমি (ইসরা)। এতে দেশ-বিদেশের শারিয়াহ বিশেষজ্ঞ বা উলামায়ে কিরামের সমন্বয়ে মুয়ামালাত বিষয়ে গবেষণা করা হয়। [১৮] ২. ইনসেইফ: এটি বিশ্বের একমাত্র সম্পূর্ণ ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশ্ববিদ্যালয়। [১৯]

 

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং:

বাংলাদেশে মোট ৮টি পরিপূর্ণ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে। ১৭টি ব্যাংকে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো বা শাখা। ১৩টি ইসলামী ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৬টি তাকাফুল ও ৩টি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরের ২১ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের। গত ৪ বছরে ইসলামী ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মোট এ্যাসেট ও ডিপোজিট ২০১২ তে ১ ট্রিলিয়ন টাকা অতিক্রম করেছে। [২০]

২০০১ সনে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকসমূহের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ বোর্ড ‘সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ’। গবেষণা, প্রশিক্ষণ, ফাতওয়া ইত্যাদি নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৯ সনে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ‘গাইডলাইন্স ফর ইসলামিক ব্যাংকিং’ নামে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি পৃথক গাইডলাইন প্রকাশ করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক মালয়েশিয়া-ভিত্তিক আইএফএসবির সদস্যপদও গ্রহণ করেছে।

এসবই আশাব্যঞ্জক খবর। তবে এখনো বাংলাদেশে কোনো পৃথক ইসলামিক ব্যাংকিং আইন তৈরি হয় নি। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকেরও ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ভিন্ন নজরদারী ও নিয়ন্ত্রণ সেভাবে নেই।

অপরদিকে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে পারদর্শী গড়ে তোলার জন্য এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব কিছু শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে। অথচ যে কোনো ব্যবস্থাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

 

উপসংহার:

বাংলাদেশে আইন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সামনে যাওয়ার পথ বিপদসংকুল হয়ে উঠছে। পারদর্শী ও সচেতন ব্যক্তিদের অভাব ছাড়াও এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের অভাব প্রকট।

প্রতি বছর এ দেশে হাজার হাজার ছাত্র কওমী মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করা সত্ত্বেও ফিকহুল মুয়ামালাত ও আধুনিক অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে পারদর্শী আলিমের সংখ্যা হাতে গোনা। অল্প কিছু ইফতা বিভাগ আধুনিক মুয়ামালাতের বিষয়ে স্বতন্ত্র বিশেষায়িত শিক্ষা দিচ্ছে।

ইসলামী অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানের দাবী। আর ঈমান বাঁচানোর কাজ উলামায়ে কিরামই বেশি করে থাকেন। তাই এ সেক্টরে উলামায়ে কিরামের সবচেয়ে অগ্রগামী হওয়া সময়ের দাবী।

মসজিদের খুতবায়, দৈনিক-সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্রিকায় লেখনীতে, বিভিন্ন বয়ানে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। সকল ইফতা বিভাগে এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গবেষণা, মুতালায়া ও তামরীনের পাশাপাশি ছাত্রদেরকে বাস্তবে ব্যাংকগুলোর অবস্থা যাচাইয়ে পাঠানো যেতে পারে। বেফাকসহ সকল বোর্ডের সিলেবাসে আধুনিক মুয়ামালাতের ওপর লিখিত বই ওপরের ক্লাসে পাঠ্যবই করা যেতে পারে। পাকিস্তানের জামিয়াতুর রশীদে ইফতা বিভাগে অধ্যয়নকারী একই সাথে মুফতী ও এমবিএ ডিগ্রী লাভ করে ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে অবদান রাখেন।

অনুরূপভাবে সাধারণ মানুষের জন্যও আধুনিক মুয়ামালাত বুঝার কোর্স চালু করা যেতে পারে। মুফতী তাকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহর পরিচালনায় দারুল উলূম করাচীতে ব্যাংকার ও সাধারণ মানুষের জন্য কোর্স পরিচালিত হয়। দারুল উলূম করাচীতে এজন্য স্বতন্ত্র একটি বিভাগ রয়েছে, ‘সেন্টার ফর ইসলামিক ইকনমিক্স’ নামে। [২১]

শরীয়াহ বোর্ডের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ উলামায়ে কিরাম। এ জায়গাটায় বর্তমানে যোগ্য লোকের প্রচণ্ড অভাব। ফলে শরীয়াহ লঙ্ঘন হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার।

ঈমান ও আমল হেফাজতের অন্য সকল ক্ষেত্রের ন্যায় এ জায়গাটারও হক উলামায়ে কিরামের। বর্তমানে রিবামুক্ত অর্থনীতি চিন্তা করতে গেলে এ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তাই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে উলামায়ে কিরাম যেন এই সেক্টরের নেতৃত্ব দেন, সেই দোয়া ও প্রত্যাশা করছি।

 

তথ্যসূত্র:

১. ব্যাংকিং ও বীমা – কাজী ফারুক ও কাজী সায়মা – পৃষ্ঠা ৪-১১
২. ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম – ইন্টারন্যাশনাল শারিয়াহ রিসার্চ অ্যাকাডেমি – পৃ:১২
৩. ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থা, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, পৃ: ২৫-৪৪
৪. ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম – ইন্টারন্যাশনাল শারিয়াহ রিসার্চ অ্যাকাডেমি – পৃ:১১৬
৫. ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থা, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, পৃ: ৬৭-৬৮
৬. আইএফএন এশিয়া ফোরাম ২০১৩, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া, অক্টোবর ২০১৩
৭. আইএফএসবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ সেমিনারে ‘গ্লোবাল ইস্যুজ, অপরচ্যুনিটিস এ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন, দাউদ ভিকারী আব্দুল্লাহ, সেপ্টেম্বর ২০১৩
৮. ইসলামিক ফাইন্যান্স এ্যান্ড গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১০, আই.এফ.এস.বি
৯. আইএফএসবি IFSB
১০. ‘এক নজরে ২০১৩ তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামিক ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা’’  শিরোনামের অধীনে দেয়া এ পর্যন্ত সকল তথ্য: আই.এফ.এন এশিয়া ফোরাম ২০১৩, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া, অক্টোবর ২০১৩
১১. https://www.gov.uk/government/speeches/world-islamic-economic-forum-prime-ministers-speech
১২. তাওয়াররুক ও ইনাহ’ বিষয়ে মুফতী তাকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহর ‘কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারাহ’ দ্রষ্টব্য।
১৩. ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম – ইন্টারন্যাশনাল শারিয়াহ রিসার্চ অ্যাকাডেমি – পৃ:৬৪৭
১৪. আই.এফ.এন এশিয়া ফোরাম ২০১৩, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া, অক্টোবর ২০১৩
১৫. আই.এফ.এন এশিয়া ফোরাম ২০১৩, ড. খালদি আল ফাকিহ-র প্রেজেন্টেশন, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া, অক্টোবর ২০১৩
১৬. বিস্তারিত দেখুন: www.aaoifi.com
১৭. বিস্তারিত দেখুন: www.ifsb.org
১৮. ওয়েবসাইট: www.isra.my
১৯. ওয়েবসাইট: www.inceif.org
২০. আই.এফ.এস.বি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ সেমিনারে প্রেজেন্টেশন, মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সেপ্টেম্বর ২০১৩
২১. দেখুন: www.cie.com.pk

 

[একটি স্মারকে প্রকাশের জন্য ডিসেম্বর ২০১৩ তে লিখিত]