Pages Menu
TwitterRssFacebook

Posted on Dec 8, 2013 | 1 comment

বর্তমান সময়ে সন্তানকে আলিম বানানো : একজন সৌভাগ্যবান পিতাকে কিছু কথা

আজ একজন ডাক্তার সাহেব ও একজন দ্বীনী ভাই জামিয়ায় আসেন। ডাক্তার সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, তাঁর একটি ক্লিনিকও রয়েছে। ছেলেকে তিনি হিফয পড়াচ্ছেন। দশ পারা হিফয হয়েছে।

ছেলে যেখানে পড়ছে, সেখানে অনেক কষ্ট, ডাক্তার সাহেব জানেন। কিন্তু ছেলে সবসময় পিতা-মাতাকে সান্ত্বনা দেয়। বলে, আমি অনেক ভালো আছি। এখানে শিক্ষকরা অনেক ভালো, পরিবেশটা দ্বীনী। ইত্যাদি ইত্যাদি। ছেলের আগ্রহ দেখে ডাক্তার সাহেবের পরিবারও সন্তুষ্ট।

ডাক্তার সাহেব তাবলীগের সাথী। দাওয়াহর কাজে তিনি সবসময়ই উপলব্ধি করেন, ইলম বা জ্ঞানার্জন ছাড়া প্রকৃত দাওয়াহর কাজ করা সম্ভব না। তাই ছেলেকে আলিম বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় দিয়েছেন তিনি।

হিফয শেষ হলে ছেলেকে আলিম কোর্সে ভর্তি করানোর ইচ্ছা তাঁর। কোথায় ভর্তি করানো যায় এখন থেকেই তা পরিকল্পনা করছেন। জামিয়ার সুনাম অনেক শুনেছেন, তাই দেখতে এসেছেন। আরো দুয়েকটি জামিয়াতেও গিয়েছেন।

ডাক্তার সাহেবের সাথে যে ভাই, তিনি আমাদের সম্মানিত পাঠক আলহামদুলিল্লাহ। সুধারণার ভিত্তিতে ডাক্তার সাহেবের স্বপ্নটাকে পাকাপোক্ত করতে দেখা করাতে নিয়ে এসেছেন।

ডাক্তার সাহেবকে যা বলা হয়েছে তার সারাংশ:

১. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে ইলম হঠাৎ করে উঠিয়ে নেবেন না। বরং, ইলম উঠিয়ে নেবেন আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে। ফলে যখন আর কোনো আলিম বাকী থাকবেন না, মানুষ জাহিলদেরকে (দ্বীনী জ্ঞানের ব্যাপারে যারা অজ্ঞ) জিজ্ঞাসা করবে। তারা ইলম ছাড়াই ফাতওয়া দিবে। ফলে নিজেরাও বিভ্রান্ত হবে, অন্যকেও বিভ্রান্তিতে ফেলবে। [বুখারী:১০০]

কাজেই ইলম বাকী রাখতে বেশি বেশি আলিম বানানোর প্রয়োজন।

২. ছেলেকে আলিম বানানোর ব্যাপারে আপনি, আপনার পরিবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন। অনেক বাধা আসবে। মানুষ হাসবে, টিটকারি দিবে, ঠাট্টা করবে। পিছপা হবেন না। ছেলেকে সম্পূর্ণ সাপোর্ট দিয়ে যাবেন। আপনার ছেলে আগ্রহ দেখাচ্ছে, এটাকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবেন।

৩. সম্ভব হলে ছেলের জন্য সম্পত্তির কিছু অংশ লিখে দেবেন। সে যেন নিশ্চিন্তে দ্বীনী কাজে মগ্ন থাকতে পারে, কোনো পিছুটান না থাকে।

৪. রিযিক যিনি বণ্টন করেন, তাঁর পছন্দমতো পড়া পড়াচ্ছেন। কাজেই কখনো হীনমন্যতার শিকার হবেন না। দুনিয়াতে প্রধানমন্ত্রীর চাকুরী করে কেউ যদি টেনশন করে যে, বেতন ঠিক মতো পাবে কিনা, তা যতটা হাস্যকর হবে, তার চেয়ে হাজারো গুন বেশি হাস্যকর ও বোকামি হবে, রাযযাকের দ্বীনের খাদিম হয়ে রিযিক নিয়ে পেরেশান হওয়া।

৫. মানুষ অনেক কিছু বলবে। কী পড়াচ্ছেন? কী করে খাবে? মনে রাখবেন, পড়াশোনার সাথে রিযিকের কোনো সম্পর্ক নেই। পড়াশোনা শেষ করে প্রতিবছর হাজারো শিক্ষিত বেকার আমরা পাচ্ছি। যাদেরকে চায়ের আসরে আড্ডায় আর মিছিলের সারিতে পাওয়া যায়। সমাজ ও পরিবারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। আবার একেবারে অশিক্ষিত হয়ে কত মানুষ কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। তো, রিযিক আর পড়াশোনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার।

(এ কথাটি শুনে ডাক্তার সাহেব ওনার জানা মতে অনেকের কথা বললেন। বর্তমানে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাসীন একজনের কথা বললেন, তিনি আট বার চেষ্টা করে ইন্টার পাশ করেছেন। একটি প্রতিষ্ঠিত গ্রুপ অব কোম্পানির মালিকের কথা বললেন, তিনি বলেছেন, তিনি স্বাক্ষর দেয়া শিখেছেন গ্রুপের মালিক হওয়ার পরে। এরকম আশে পাশের অনেকের দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন। এবং বিষয়টিকে ধ্রুব সত্য হিসেবে আখ্যায়িত করলেন।)

৬. এরকম পরিবার থেকে যারা উঠে আসেন, আলিম হন, তাদের দ্বারা আল্লাহ তায়ালা বহুমুখী দ্বীনী খিদমাহ নিয়ে থাকেন। কাজেই সর্বাবস্থায় ছেলের ইলম অর্জনের এই কণ্টকাকীর্ণ পথে আপনারা তার পাশে থাকবেন।

আলহামদুলিল্লাহ ডাক্তার সাহেব খুব প্রশান্ত হৃদয়ে গালভরা হাসি নিয়ে প্রস্থান করেন। আল্লাহ যেন তাঁর ছেলেকে বড় আলিম হিসেবে কবুল করেন, দ্বীনের প্রকৃত খাদিম হিসেবে কবুল করেন, সবাই দোয়া করি। আমীন।