আমার ডায়েরি : ০৭/০২/২০১১ : আমাদের মিরাকল প্রীতি আর অবহেলিত আল-কুরআন

সেদিন এক ভাই ফেইসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করলেন। আমাকে বললেন, মন্তব্য করতে। ভিডিওটি দেখলাম। কাবা শরীফের ওপর এসে একজন ফেরেশতা (সাদা পাখি সদৃশ) বসেছেন। আবার কিছুক্ষণ পর উড়ে চলে গেছেন। ভিডিওটির ইন্ট্রোতে তাকে ফেরেশতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দর্শক ফেরেশতা দেখে সুবহানাল্লাহ বলছেন।

এর কয়েক দিন পর। বাসায় কে যেন একটা চটি বই দিয়ে গেছে। দুই টাকা দামের। এতে একজন মহিলার সাপ হয়ে যাওয়ার ‘সত্য ঘটনা’ বর্ণিত হয়েছে। লেখক নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। খুব আগ্রহ সহকারে বইটি পড়লাম। পড়ে মনে হলো, লোকটা আসলই অনেক বড় সাংবাদিক। এত বড় সাংবাদিক, এত বড় সাংবাদিক.. যে তার পরিবেশিত সংবাদ বোঝার মতো ক্ষমতা আমার হয় নি। কারণ কয়েকটি।

১. আমাদের প্রচলিত বানান এড়িয়ে তিনি নতুন নতুন বানানে শব্দ লিখেছেন।
২. আমাদের পরিচিত বর্ণনাভঙ্গি এড়িয়ে তিনি নতুন বর্ণনাভঙ্গি অনুসরণ করেছেন।

পাশাপাশি, তিনি একবার বলেছেন, এটা বাংলাদেশের ঘটনা, আবার বলেছেন দুই বছর আগের আরবের ঘটনা। এরপর পরিশিষ্টে ইউটিউব ভিডিওর কমেন্টগুলো অনুবাদ করে দিয়েছেন। ইংরেজী শব্দে শব্দে বাংলা অনুবাদ করেছেন। তাই কোনো অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি।

যাহোক, তার বইতে তিনি এক মহিলার ঘটনা লিখেছেন। যে সাপ হয়ে গেছে। তার ছবিও ছেপেছেন তিনি। আগের ও পরের।

তার বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে প্রকাশিত আরো কয়েকটি বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি দেয়া আছে।

১. নেপালের মিনার মিরাকল
২. কাবা শরীফের ওপর ফেরেশতার অবতরণ
৩. মহিলার সাপ হয়ে যাওয়া

ইত্যাদি..

নেপালের মিনার মিরাকলটাও এমনি ভাবে একদিন শুনতে পেয়েছিলাম। যা নিয়ে পরে বিস্তারিত লিখেছি।

আজব ব্যাপার হচ্ছে, মিরাকল নিয়ে অতি উৎসাহ শুধু বাংলাদেশি মুসলিমদের নয়। বরং গুগল সার্চ র‌্যাংকিং দেখলে বোঝা যায়, গোটা বিশ্বের মুসলিমদেরই একই অবস্থা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?

এর উত্তর একটাই। আমাদের ঈমানের দুর্বলতা। আমাদের বিশ্বাস এখন এতটাই নড়বড়ে যে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া ফটোশপের কারসাজির মিরাকল দেখে তা তাজা করতে হয়। আফসোস!

আচ্ছা, আমাদের ঘরে ঘরে, মসজিদে মসজিদে, শেলফে শেলফে যে আল-কুরআন শোভা পায় ‘বরকত’ হিসেবে, আমরা কি তা একদিনও খুলে দেখি? আমরা কি জানি, মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মিরাকল হলো ‘আল কুরআন’?

আল-কুরআন পড়ার ও বোঝার পর একজন মুসলিমের আর কোনো মিরাকলের প্রয়োজন হতে পারে না। একজন মুসলিম আল-কুরআন বুঝে পড়লে দেখতে পাবে যে আল্লাহ তাআলা মানব জীবনের প্রতিটা বিষয় তাতে বলে দিয়েছেন। মনে হবে, আল্লাহ পাঠকের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। তার ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছেন। তাকে সতর্ক করছেন। তাকে কাঁদাচ্ছেন। আবার হাসাচ্ছেন।

পাঠক দেখবে, আল্লাহ তার খুব নিকটে চলে এসেছেন। তাকে খুব মায়া করে বুঝাচ্ছেন। জীবন চলার পথের আলোর দিশা দিচ্ছেন।

এর চেয়ে বড় আর কোনো মিরাকল কি আর আমাদের প্রয়োজন আছে? আশা করি উত্তর দিবেন।