ইসলাম ও মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের আইনসমূহ

বহু দিন ধরে বাংলাদেশের আইনবিষয়ক ওয়েবসাইটে ভিজিট করা হয়। কোনো প্রবন্ধ লেখার আগে বা কোনো আলোচনা/বয়ানের প্রয়োজনে প্রায়ই ওয়েবসাইটটির দ্বারস্থ হই। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই দেশের আইন সম্পর্কে জানার জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য।

এই পোষ্টে বাংলাদেশের সংবিধান ও অন্যান্য আইনে ইসলাম ও মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় যেসব ধারা রয়েছে, সেগুলো সংকলন করা হবে ইনশা’আল্লাহ। বিশেষ করে ধর্মীয় অবমাননা বিষয়ক আইনগুলো উল্লেখ করার চেষ্টা করা হবে ইনশা’আল্লাহ। সাথে ওয়েব লিংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র প্রদান করা হবে। যেন যে কেউ রেফারেন্স হিসেবে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

পোষ্টে উল্লিখিত আইন ছাড়াও আরো কোনো আইন কারো জানা থাকলে দয়া করে মন্তব্যের ঘরে উল্লেখ করার অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ।

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ধারা ২, ১২, ৩৮, ৩৯ ও ৪১:

রাষ্ট্রধর্ম প্রসঙ্গে:

২ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র), ধারা ২ক

 

ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রসঙ্গে:

১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য

(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,

(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,

(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,

(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,

বিলোপ করা হইবে।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, দ্বিতীয় ভাগ (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি), ধারা ১২

 

সংগঠনের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে:

৩৮। জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরুপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি-

(ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;

(খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;

(গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা

(ঘ) উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, তৃতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকার), ধারা ৩৮

 

চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা প্রসঙ্গে:

৩৯। (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং

(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার

নিশ্চয়তা দান করা হইল।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, তৃতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকার), ধারা ৩৯

 

ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রসঙ্গে:

৪১। (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে;

(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।

(২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাঁহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, তৃতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকার), ধারা ৪১

 

মন্তব্য: সংবিধানের উল্লিখিতি ধারাসমূহ থেকে ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্ম পালন, ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না বলে উল্লেখ করা হয়। অনুরূপভাবে ধর্মকে অবমাননাকারী সংগঠন তৈরীর অধিকার কারো নেই বলে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া বাক-স্বাধীনতাকে জনশৃঙ্খলা ও মানহানিসহ  বিভিন্ন বাধানিষেধের সাথে সীমিত করা হয়েছে। এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২৯৫, ২৯৬, ২৯৭ ও ২৯৮:

CHAPTER XV – OF OFFENCES RELATING TO RELIGION

Injuring or defiling place of worship, with intent to insult the religion of any class

295. Whoever destroys, damages or defiles any place of worship, or any object held sacred by any class of persons with the intention of thereby insulting the religion of any class of persons or with the knowledge that any class of persons is likely to consider such destruction, damage or defilement as an insult to their religion, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

Deliberate and malicious acts intended to outrage religious feelings of any class by insulting its religion or religious beliefs

295A. Whoever, with deliberate and malicious intention of outraging the religious feelings of any class of the citizens of Bangladesh, by words, either spoken or written, or by visible representations insults or attempts to insult the religion or the religious beliefs of that class, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

Disturbing religious assembly

296. Whoever voluntarily causes disturbance to any assembly lawfully engaged in the performance of religious worship, or religious ceremonies, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

Trespassing on burial places, etc

297. Whoever, with the intention of wounding the feelings of any person, or of insulting the religion of any person, or with the knowledge that the feelings of any person are likely to be wounded, or that the religion of any person is likely to be insulted thereby, commits any trespass in any place of worship or on any place of sepulture, or any place set apart for the performance of funeral rites or as a depository for the remains of the dead, or offers any indignity to any human corpse, or causes disturbance to any persons assembled for the performance of funeral ceremonies, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

Uttering words, etc, with deliberate intent to wound religious feelings

298. Whoever, with the deliberate intention of wounding the religious feelings of any person, utters any word or makes any sound in the hearing of that person or makes any gesture in the sight of that person or places any object in the sight of that person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

 

মন্তব্য: দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর উল্লিখিত ধারাসমূহে ধর্মীয় স্থাপনার অবমাননা ও ধ্বংস, ধর্মীয় অবমাননার উদ্দেশে কৃত যে কোনো ইচ্ছাকৃত কর্ম, ধর্মীয় সংগঠনের অবমাননা, ধর্মকে আঘাত করে দেয়া বক্তব্য, লেখা বা যে কোনো আওয়াজ উঠানোর দন্ড উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থদন্ড বা কারাদন্ড বা উভয়টি, একবছর বা দু’বছর, কর্মভেদে দন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ৫৭:

ইলেক্ট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দণ্ড

৫৭৷ (১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বত্সর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷

 

মন্তব্য: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর উল্লিখিত ধারায় অনলাইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন যে কোনো কিছু প্রকাশ, লেখা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনধিক দশ বত্সর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দন্ড দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

সূত্র: 

১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

২. দন্ডবিধি, ১৮৬০ – THE PENAL CODE, 1860

৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬