ইসলামিক ব্যাংকস কনসাল্টেটিভ ফোরাম (আইবিসিএফ) -র উদ্যোগে আয়োজিত “শারীয়াহ ব্যাংকিং: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনার

গতকাল ইসলামিক ব্যাংকস কনসাল্টেটিভ ফোরাম (আইবিসিএফ) -র উদ্যোগে “শারীয়াহ ব্যাংকিং: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার হোটেল র‍্যাডিসনে আয়োজিত সেমিনারটিতে উপস্থিত ছিলেন আইডিবির প্রেসিডেন্ট ড. আহমাদ মুহাম্মাদ আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থ-প্রতিমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীসহ ব্যাংকপাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব একে আজাদ বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের কাছে আমাদের দাবী, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন করা, যা বিশ্বের প্রায় নব্বইটি দেশে রয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ক সিনিয়র পরামর্শক এম আজিজুল হক সাহেব। তিনি তার নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, বর্তমানে এর সার্বিক অবস্থা,  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি বলেন,

বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠা একটি যৌথ পদক্ষেপের ফলাফল ছিল। ১৯৭৪-এ ডাকার কনফারেন্সে ওআইসির সদস্য দেশগুলোর পররাষ্টমন্ত্রীদের আইডিবি চার্টার স্বাক্ষর, ১৯৭৫ -এ আইডিবি প্রতিষ্ঠা, এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ব্যাংকিং সেক্টরে প্রাইভেট উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ প্রদান, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সেন্ট্রাল ব্যাংকের কাছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহে ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা খোলার চিঠি প্রেরণ, সেন্ট্রাল ব্যাংকের নানা পদক্ষেপ যেমন মধ্যপ্রাচ্যে একটি সার্ভে টিম পাঠানো, অনুরূপভাবে আইডিবির সার্ভে টিম বাংলাদেশে প্রেরণ, স্থানীয় ব্যাংকার ও স্কলারবৃন্দ কর্তৃক প্রয়োজনীয় জনবলকে ট্রেনিং প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্পন্সরদের (আইডিবিসহ) প্রয়োজনীয় মূলধন যোগান, এবং সবশেষে সেন্ট্রাল ব্যাংকের একটি পদক্ষেপ বাংলাদেশে ১৯৮৩ সনে প্রথম ঐতিহাসিক ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলে।

প্রথম ইসলামী ব্যাংকের প্রাদুর্ভাব শরীয়াহ ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ দূর করতে সক্ষম হয় এবং পরবর্তীকালে আরো অনেক ব্যাংক এগিয়ে আসে। বর্তমানে আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক এবং ১৫টি শরীয়াহ শাখা/ উইন্ডোযুক্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সর্বমোট ৮২৫টি শাখা বা উইন্ডো কাজ করছে, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ২২% এবং মোট জমা ১৯%। আরো কয়েকটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্যাংকিং কোম্পানি আইন ১৯৯১ -এ শারীয়াহ ব্যাংকিংয়ের উপধারা/ পরিভাষা যুক্তকরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকিং গবেষণা, এবং শারীয়াহ ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক ইন্সপেকশন বিভাগ গঠন, সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অফ বাংলাদেশ ও ইসলামিক ব্যাংকস কনসাল্টেটিভ ফোরাম প্রতিষ্ঠা – এ সবই ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দাবীটিকে এ দেশে আরো জোরালো করেছে।

গত তিন দশকে ইসলামিক ব্যাংকগুলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় উন্নয়ন তথা শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষিতে বিনিয়োগ, এসএমই, মাইক্রোফাইন্যান্স, উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক দায়িত্ব -ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ ভালো ভূমিকা রেখেছে।

সামনের দিনগুলোতে ইসলামী ব্যাংকগুলো একসঙ্গে কাজ করে দারিদ্রমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসলামিক ব্যাংকগুলোকে জনবল প্রস্তুতকরণ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শারীয়াহ ব্যাংকিং প্রমোটকরণ, অন্যান্য দেশের ন্যায় প্রয়োজনীয় ইসলামী ব্যাংকিং আইন দাবীকরণ, শারীয়াহ কমপ্লায়ান্সে সমতা নিয়ে আসা, মানুষের নানা প্রয়োজনকে সামনে রেখে নতুন নতুন সলিউশন প্রদান এবং প্রত্যেকের কাছে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

তার মূল ইংরেজি প্রবন্ধের পয়েন্টগুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

[learn_more caption=”এখানে ক্লিক করুন”]

1. Introduction

2. Emergence of Islamic Banking in Bangladesh

2.1 Government Initiatives

2.2. Central Bank Initiatives

2.3 Role of IDB (Islamic Development Bank)

2.4 Local Private Initiatives

2.5 The Inauguration in 1983

3. Present Status of Islamic Banking in Bangladesh

3.1 Full-fledged Islamic Banks

3.2 Conventional Banks with Islamic Banking branches and windows

3.3 Foreign Banks with Islamic Banking branches/ windows

3.4 Non-Bank Islamic Financial Institutions

4. Share and Contribution of Islamic Banking

4.1 Share and Growth of Islamic Banks

4.2 Contribution of Islamic Banking

5. Factors that led to where Islamic banking is today

5.1 At the Global Stage

  • Growth factors influencing the increasing demand and supply
  • Factors contributing to growth of global Islamic financial assets
    • Increasing demand
    • Regulatory Support
    • Value proposition of Islamic Finance
    • Financing Gap
    • Tap wider base of wealth

5.2 Factors Contributing in the Growth of Islamic Banking in Bangladesh

Government Level steps

  • Incorporation of Islamic Banking terms in the amended bakning company Act 1991
  • Islamic Banking Act discussed

Bangladesh Bank Steps

  • Central Bank’s mission: Promoting financial inclusion for inclusive growth
  • Allowing different combination of banking
  • Formulation of Guideline for Sharia based banks
  • BGIIB (Bangladesh Government Islamic Investment Bond)
  • IIFM (Islamic Interbank Fund Market)
  • Refinancing under Shariah compliant modes
  • Different inspection team for Islamic banks
  • Collaboration with International Islamic Finance Regulatory bodies
  • Arrangement of training, workshops, and seminars
  • Appreciation of growth and performance of Islamic Banks
  • The Central Bank Governor’s Remarks of Islamic Banking

5.3 Organizations at Private Level

  • Islamic Banks’ Consultative Forum (1995)
  • Central Shariah Board for Islamic Banks in Bangladesh (2001)

6. Prospects and Recommendations

6.1 Prospects

6.2 Recommendations

  • Setting a unified vision
  • Strengthening the ecosystem of Islamic banking and finance Industry
  • Maintaining growth
  • Standardization and uniformity in Sharia’h compliance
  • Building on the capacity already built
  • Promoting academic courses on Shariah banking
  • Diploma/ MBM on Islamic banking
  • Apex training institute
  • Innovations and creativity
  • Creating Shariah awareness
  • Central Bank products on Islamic Banking
  • Mobilization of Zakat, Waqf and Quard
  • Seek further support and policy supports: (a comprehensive Islamic Banking Act)

Conclusions

[/learn_more]

 

ওআইসির প্রেসিডেন্ট ড. আহমাদ মুহাম্মদ আলী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সামগ্রিক অবস্থার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিন বলেন,

গত চার-পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক মন্দা বিশ্ব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেনি। ফলে সুদী অর্থব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইসলামী অর্থব্যবস্থার কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন:

১. ঝুঁকি ভাগ করে নেয়া (রিস্ক শেয়ারিং)

২. বাস্তব ইকোনমির সাথে সংযুক্ত থাকা

৩. ফটকাবাজির (স্পেকুলেশন) কোনো সুযোগ নেই

৪. গারার তথা অনিশ্চয়তা নিষিদ্ধ। এবং স্বচ্ছতা সুনিশ্চিতকরণ।

তিনি আরো বলেন, আইডিবি বাংলাদেশে RDS (Rural Development Scheme) বা গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইবিবিএলের পদক্ষেপ এটি) মাধ্যমে ইসলামিক মাইক্রোফাইন্যান্সকে প্রমোট করেছে। এবং আইডিবি গর্বের সাথে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় এই আরডিএস স্কিমের উদাহরণ দেয়। আইডিবি আনন্দিত যে, আইবিবিএল তাদের ইসলামিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা সাউথ আফ্রিকায় শেয়ার করছে। নাইজেরিয়ার জায়িজ ব্যাংক, উগান্ডার ইসলামী ব্যাংক ও সাউথ আফ্রিকায় বিভিন্নভাবে আইবিবিএল অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে।

আরডিএসের অধীনে সিডর আক্রান্ত এলাকার পুন:সংস্থানে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ১৮০০ সাইক্লোন ভিক্টিমকে পুন:বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশটি স্কুল হয়েছে। বাংলাদেশ আইডিবির বৃহত্তম ঋণগ্রহীতা, এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বিলিয়ন ইউ এস ডলার নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব আতিউর রহমান বলেন,

বিশ্বমন্দা পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকিং শুধু মুসলিম প্রধান দেশগুলোতেই মূলধারায় পরিণত হয় নি, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। এর অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ভাগের ব্যবস্থা, ফটকাবাজী বিমুখ হওয়া -ইত্যাদিই এর কারণ। বাংলাদেশেও ইসলামী ব্যাংকিং ইতোমধ্যে মোট ব্যাংকিংয়ের এক পঞ্চমাংশ দখল করে নিয়েছে।

মূল প্রবন্ধে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ উঠে আসায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে Export Development Fund (EDF) ও আরো কিছু শারীয়াহ অনুসৃত প্রোডাক্টের কথা তিনি উল্লেখ করেন, যেগুলোর কয়েকটি ইতোমধ্যে এসে গেছে আর কিছুর কাজ চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা মুদারাবা-মুশারাকার মতো রিস্ক শেয়ারিং মোডের ব্যবহার বেশি দেখতে চাই, মুরাবাহা-ইজারার মতো অংশীদারীত্ববিহীন মোডের তুলনায়।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান তার বক্তব্যে জানান,

ইসলামিক ব্যাংকিং আইন নিয়ে কাজ চলছে, আশা করা যায় শীঘ্রই তা হয়ে যাবে।

এফ. বি . সি.সি আই এর সভাপতি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজি আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন (তিনি কয়েক বছর ধরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে সম্পূর্ণ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর করতে চাচ্ছেন, লাইসেন্স পাচ্ছেন না),

বাংলাদেশে ৫১ টি ব্যাংকের মাত্র ৭টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক (একটি সবেমাত্র যুক্ত হয়েছে), অথচ এই সাতটির সম্পদ পুরো সেক্টরের ২০% -এর বেশি। তাহলে আরো অনুমতি দিলে সম্পদ কত হবে অনুমান করা যায়।

তিনি বলেন, অনেকে বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন করে থাকে, অথচ সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন সুদী ব্যাংকগুলো থেকেও হয়ে থাকে। এটা তো ব্যক্তির বিষয়, প্রতিষ্ঠান তো যুক্ত নয়।

তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোও, যে কারণেই হোক, ইসলামী ফাইন্যান্সের অনুমতি দিচ্ছে, অথচ আমাদের এখানে দেয়া হচ্ছে না।

জনাব এম আজিজুল হক দ্বিতীয় সেশনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন,

Islam doesn’t patronize poverty. Islam hates poverty and loves the poor. ইসলাম কখনো দরিদ্রতাকে জিইয়ে রাখতে চায় না। ইসলাম দরিদ্রতাকে অপছন্দ করে, তবে দরিদ্রকে ভালবাসে। ইসলাম চায় সম্পদ ধনীর হাতে কুক্ষিগত না থাকুক।

كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ

সম্পদ যেন তোমাদের ধনীদের মাঝেই পুঞ্জীভূত না হয়ে থাকে। (সূরা হাশর: ৮)

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দুটো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো,

১. ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তকারী) ব্যাংকিং

২. উদ্যোক্তা তৈরি

বিখ্যাত প্রফেসর রডনি উইলসন বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ছাড়া মুসলিম দেশগুলো কখনো পুরোপুরি ইনক্লুসিভ হবে না। এক্ষেত্রে হয় তো পুরো ব্যবস্থাকে ইসলামিক করতে হবে, নতুবা ইসলামিক ব্যাংকিংকে মেইনস্ট্রিম বা মূলধারায় পরিণত করতে হবে।

আর দ্বিতীয়ত, ইসলাম উদ্যোক্তা তৈরি করে থাকে। মুদারাবায় একজন উদ্যোক্তা অনিচ্ছাকৃত লসে পড়লে কোনো লস গ্রহণ করতে হয় না। এরকম উদ্যোক্তা বান্ধব কোনো ব্যবস্থা প্রচলিত সুদী ব্যবস্থায় নেই।

আর ইসলামী ব্যাংকিংকে মূলধারা বা মেইনস্ট্রিমে না আনলে দুটো বিষয় হবে। ক. দায় নির্ভর পদ্ধতি (debt based structure) ব্যবহৃত হবে। খ. সুদভিত্তিক বেঞ্চমার্ক ব্যবহৃত হবে।

আর দায় নির্ভর ব্যবস্থায় সম্পদের মালিক হবে ঋণগ্রহীতারা। জমাকারীরা নয়। এজন্যই বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে দায় নির্ভর পদ্ধতি মেনে চলতে হচ্ছে।

শেষকথা, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিৎ হবে ইসলামিক ব্যাংকগুলোর প্রতি উদার হওয়া। যারা ডুয়াল ব্যাংকিং করছেন (সুদী ব্যাংক + ইসলামী শাখা/ উইন্ডো) তারা নতুন কোনো ইসলামী ব্যাংকিং লাইসেন্স পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সুদী ব্যাংকিং ও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য সমান ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি তা করা হয়, তাহলে ২০২৫ এর মধ্যে আমরা ইনশা’আল্লাহ ইসলামী ব্যাংকিংকে বাংলাদেশে মূলধারার ব্যাংকিং হিসেবে পাব।

সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব লোটাস কামাল দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোকে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের অনুরোধ করেন। এবং সামনে পদ্মা সেতুতে ২০০০ কোটি টাকা অর্থায়নের দাবী করেন, তা যে কোনো পদ্ধতিতেই হোক না কেন।

মন্তব্য: সেমিনারটি বাংলাদেশে শারীয়াহ ব্যাংকিংয়ের ইতিবৃত্ত তুলে ধরার পাশাপাশি সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় দাবীগুলো পেশ করতে পেরেছে। এবং সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বক্তব্য এসেছে, যা নিশ্চয়ই শুভ লক্ষণ। বাংলাদেশে যে পরিমাণ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে, তা বিশ্বের অনেক দেশেই নেই। যে সময় বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং শুরু হয়, সাউদী আরবেও সে সময় শুরু হয় নি। সব মিলিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আগামীতে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে বলে আমরা আশা করতেই পারি।