মৃত্যু নিয়ে ভাবনা

১. আমরা পার্থিব নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা ইভেন্ট মনে রাখার জন্য রিমাইন্ডার সেট করি। বা সময় মতো সজাগ করার জন্য এ্যালার্ম দিয়ে রাখি। কোনো কারণে তা মিস হলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই হয়ত মিস হয়ে যায়; ব্যর্থতায় পর্যবসিত হই আমরা।

মৃত্যু ও মৃত্যুর ঘোষণা -আমাদের জন্য সেরকমই একটি রিমাইন্ডার বা এ্যালার্ম। পার্থিব হাজারো ব্যস্ততার মাঝে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ‘পরকাল’ -এর কথা মনে করিয়ে দেয় এ মৃত্যু। মাইকে ঘোষণা ভেসে আসে, এলাকার কেউ মারা গেছেন, বা হয়ত আত্মীয় কেউ চলে গেছেন। এগুলো আমাদের নাড়া দেয়। সজাগ করার চেষ্টা করে।

এ্যালার্ম শুনে আড়মোড়া দিয়ে যিনি দ্রুত সজাগ হয়ে ওঠেন, সঠিক সময়ে পৌঁছে তিনি সফলতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যান। একইভাবে মৃত্যু, মৃত্যুর ঘোষণা, জানাজা, কাফন ও দাফন আমাদেরকে সজাগ করার চেষ্টা করে। আমরা যদি সজাগ হই, সতর্ক হই, তাহলে সফলতা খুব দূরে নয়। আর যদি অলস ঘুমের মাঝে এ্যালার্ম বন্ধ করার মতো করে এ সতর্কবাণীকে হেলায় ছুড়ে ফেলি, ব্যর্থতা ও বিপদ তাহলে একেবারে সন্নিকটে।

২. চারপাশে মিথ্যার ছড়াছড়ি। মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করতে যে যত বেশি পারদর্শী, সে তত চালাক, তত স্মার্ট। কাজেই আমরা সবসময় বিভ্রান্ত, দিকভ্রান্ত। এরই মাঝে চরম সত্য হলো মৃত্যু; একে মিথ্যা বলার কোনো উপায় নেই।

ঈমানের যতগুলো শাখা আছে, তন্মধ্যে আখিরাতের প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস সবচেয়ে কঠিন। সম্পূর্ণ অদৃশ্য একটি বিষয়, তবু বিশ্বাস করতে হয়। কাফিরদেরও এ নিয়েই সংশয় সবচেয়ে বেশি ছিল। আর তাই আল্লাহ তায়ালাও আল-কুরআনে ইয়াওমুল আখির বা শেষ দিবসের বিশ্বাসের সপক্ষে অকাট্য যুক্তি ও দলীল উপস্থাপন করেন, দূর করেন সকল সংশয় ও সন্দেহ।

আখিরাতের বিশ্বাসের ব্যাপ্তি শুরু মৃত্যু দিয়ে। এরপর কবর, কবরে প্রশ্নোত্তর, কবরের শাস্তি অথবা প্রশান্তি, পুনরুত্থান, হাশর বা একত্রিত হওয়া, কাউসার, সিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম – সবই আখিরাতের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।

এই বিশ্বাসসমূহের প্রথম স্তর, মৃত্যু ও কবরস্থ করা, আমাদের সামনে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা চাইলে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সরাসরি মৃত্যু পরবর্তী অবস্থায় বান্দাকে নিয়ে যেতে পারতেন; উঠিয়ে নিতে পারতেন আকাশে, আচমকা; বা মিলিয়ে দিতে পারতেন বাতাসে। কিন্তু, আমাদেরই সামনে, কিছুক্ষণ আগের জীবিত ব্যক্তিটির নিশ্চুপতা, এরপর তাকে কবরস্থ করা -ইত্যাদি আখিরাতের বিশ্বাসের বিষয়গুলো আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। কবরস্থ করার পরের অবস্থাটা কী হতে পারে, কবরে মৃত ব্যক্তি একা কীভাবে থাকবেন, তার সাথে কী আচরণ করা হবে, আমরা সেসব ভাবতে থাকি, অস্থির হই। আর এই অস্থিরতার উত্তরণই ইয়াওমুল আখির বা শেষ দিবসের সেই বিশ্বাসের মাঝে।

আল্লাহ আমাদেরকে ঈমানের ওপর মৃত্যু দান করুন। আমীন।