ইসলামী ব্যাংকিং আইনের দাবী গণদাবীতে পরিণত হওয়া উচিৎ

প্রায় দশ মাস আগে উত্তরার একজন ব্যবসায়ীর রিট পিটিশনের জবাবে হাইকোর্ট একটি রুল জারী করেন। এতে সরকারের কাছে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়, শরীয়াহ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য যথার্থ আইনি কাঠামোর অনুপস্থিতিকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এতে আরো জানতে চাওয়া হয়, কেন বাংলাদেশ ব্যাংকে (কেন্দ্রীয় ব্যাংকে) একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় শরীয়াহ সুপারভাইজারি কাউন্সিলের অনুপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জবাব জানা যায় নি। (নিউজ/ ১১ই এপ্রিল ‘১৪/ দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস: http://www.thefinancialexpress-bd.com/2014/04/11/28194)

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য পৃথক কোনো আইনি কাঠামো নেই। কেবল ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এ কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন এনে ইসলামী ব্যাংকিং বান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাছাড়া ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক “GUIDELINES FOR CONDUCTING ISLAMIC BANKING” বা ইসলামী ব্যাংকিং করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করে। এ বিষয়ে আরো পড়ুন: http://yousufsultan.com/laws-regulations-in-favor-of-islamic-banking-in-bangladesh/

প্রায় নব্বই শতাংশ মুসলিমের এ দেশে আর্থিক লেনদেন ও বিশেষ করে ব্যাংকিং ও শেয়ার বাজারে শরীয়াহ অনুসরণের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। তবে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবে বিষয়টা এখনো গণদাবীতে পরিণত হয় নি। সম্ভবত, কর্তৃপক্ষের এক্ষেত্রে ধীরগতির একটি কারণ এটিও।

আমাদের একে অপরকে সচেতন করতে হবে, জানাতে হবে। পৃথক আইনি কাঠামো ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছা শুধু কঠিনই নয়, বহুলাংশে অসম্ভবও।