প্রসঙ্গ: এপ্রিল Fool: আসুন একটু ভাবি..

[এক]

দৃশ্য:১:
করিম ঘুম থেকে উঠে বাজারে গেল। সেলিম বলল, ‘কাল তোর বউরে দেখলাম পাশের বাড়ীর আকিলুদ্দীর লগে ইটিশ-পিটিশ করতাছে’। ব্যাস, করিম শোঁ করে বাড়ি এসে স্ত্রীকে রাগের মাথায় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করল। সেলিম করিমের খুব পুরনো বন্ধু। তাই তার কথা অবিশ্বাস করার কিছু নেই। আবার করিমও সেলিমের খুব রসিক বন্ধু। কিন্তু হঠাৎ যে সে এত রেগে যাবে, ভাবতেই পারে নি। ফল কী হলো? একটি সংসারে ভাঙন ধরল। অথচ সেলিম সিরফ করিমকে এপ্রিল ফুল বানাতে চেয়েছিল, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

দৃশ্য:২:
করিম অফিসে বসে আছে। কাজে খুব ব্যস্ত। হঠাৎ সেলিমের ফোন আসল, ‘তোর মা… আর নেই… তাড়াতাড়ি বাসায় আয়’। করিম হুড়োহুড়ি করে সবকিছু ছেড়ে বাসায় ফিরে দেখল ঘটনা কিছুই না, মা সুস্থ আছেন। কয়েক বন্ধু একসাথে হয়েছে এই আর কি। আর মাঝে দিয়ে করিম হয়ে গেল ‘এপ্রিল ফুল’।

দৃশ্যগুলো বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। বাস্তবে এমন তেমনটা হয় না। কিন্তু বাস্তবে যা হয়, তা কিন্তু আবার কল্পনায়ও আসে না। প্রায়ই এপ্রিলের দুই তারিখে পত্রিকার পাতায় শিরোনাম দেখা যায় ‘নির্মম এপ্রিল ফুল’, ‘এপ্রিল ফুলের বলি হলো নিস্পাপ ছেলেটি’ –ইত্যাদি।

ইউরোপে ১৭৪৬ ঈশাব্দে ‘Evening Star’ নামের এক পত্রিকা ঘোষণা দিল যে, আগামীকাল ১লা এপ্রিলে অমুক জায়গায় গাধার প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। উৎসুক জনতা হুমড়ি খেয়ে পড়ল। অপেক্ষা করতে করতে যখন আর সইল না তখন আর বুঝতে বাকী রইল না যে, পত্রিকার ঘোষিত গাধা তারাই। তাদেরকে ‘এপ্রিল ফুল’ বানানো হয়েছে।

আমাদের দেশে ক’দিন আগে অভিনেত্রী জয়াকে কেন্দ্র করে কী হলো তা মনে আছে তো? বিজ্ঞপ্তি শব্দটা উল্লেখ করে দেওয়ার পরও বেচারা ভক্তকুল তাকে হারানোর শোক সইতে পারছিল না। অনেকে অনেক রকম লেখা দিয়েছেন, বিবৃতি দিয়েছেন। জয়াকে নিয়ে নিজেদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। কেউ আবার কান্নাকাটিও করেছেন। শেষে কী হলো? দেখা গেল, ওটা ছিল সিরফ একটা বিজ্ঞাপন, আর সবাই হয়েছে ‘ফুল’। কিন্তু তারপরও সাধারণ জনগণসহ সর্বস্তরের বুদ্ধিজীবীগণ তার তীব্র নিন্দা করলেন। কেন করলেন?

এই ঘটনাটাই যদি এপ্রিলের এক তারিখে ঘটত, তাহলে এই ‘তারাই’ কিন্তু সেটাকে ‘এপ্রিল ফুল’ বলে হেসে উড়িয়ে দিতেন। কারণ ওই একদিনের জন্য তো সব বৈধ। কাউকে ফুল বানাতে সেদিন কোনো কুল-কিনারা-প্রাচীর-সীমানা নেই। যে, যেভাবে, যাকে ইচ্ছা, ‘ফুল’ বানিয়ে ফুল দিতে পারে। কেউ কিছু বলবে না।

[দুই]

প্রতিবছর এপ্রিল আসলে আমরা অনেক ইতিহাসবিদ দেখতে পাই। এপ্রিল ফুলের পেছনে কী ইতিহাস ছিল তা খোঁজার জন্যে অনেকেই রাত-দিন গবেষণায় ব্যস্ত হয়ে যান। একদল প্রমাণ করে দেখান যে, এটার পেছনে একটি জাতির মর্মন্তুদ ইতিহাস রয়েছে, কাজেই তাদের পক্ষে এটা পালন করা সাজে না।

আরেক দল প্রমাণ করেন যে, ঐ ইতিহাস সম্পূর্ণ ভুল। বরং এর পেছনের ইতিহাস সিরফ মজার, তাতে কোনো কষ্ট-কান্না নেই। তাই তা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-কর্ম নির্বিশেষে যে কেউ পালন করতে পারে। বরং আমাদের গুরুরা যেখানে তা পালন করছেন, আমাদের তা পালন না করলে কি চলে!

তার মানে কী দাঁড়াল? তার মানে দাঁড়াল এই যে, এই দিবসটা পালনের বৈধতা-অবৈধতা ঘুরপাক খাচ্ছে এর পেছনের ইতিহাসের সত্যতা-অসত্যতার মাঝে। যদি ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে এটা ঐ জাতির বিপক্ষে কোনো মর্মন্তুদ ষড়যন্ত্রের উপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে, তাহলে তা পালন করা যাবে না। আর যদি তা প্রমাণিত না হয়, তাহলে তা ঠিকই পালন করা যাবে।

ব্যস, শুরু হয় দু’পক্ষের বাকযুদ্ধ। এক পক্ষ উইকিপিডিয়া, এনকার্টা, ব্রিটানিকা ইত্যাদি চষে দেখাবেন যে, ইতিহাসটা সহীহ না। আরেক পক্ষ মুসলিমপিডিয়া, ইসলামপিডিয়া ইত্যাদি দিয়ে দেখাবেন ইতিহাসটা সহীহ। আরে ভাই! যেটার প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে প্রকৃত ইতিহাসবিদরাই সন্দেহবিদ, সেখানে আমাদের মতো অনৈতিহাসিকদের ঐতিহাসিক হওয়ার কি কোনো মানে হয়? (প্লিজ কেউ রাগ করবেন না।)

সোজা কথায় আসি। ইতিহাস পক্ষে থাক বা বিপক্ষে থাক, সেটা কেন মূল আলোচনায় আসবে? প্রথমে দেখতে হবে, যে কর্মটা নিয়ে আমরা এত হইহই করছি, সেটার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু। ধর্মের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু মানবতাও কি এসব মিথ্যা-ধোকা সাপোর্ট করে? এই যে প্রতিবছর এটাকে কেন্দ্র করে এতসব অঘটন ঘটছে, এগুলো কি মানবতা বিরোধী নয়? বছরের ৩৬৪ দিন যা করলে মানুষ মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়, এই একদিন তা করলে কি সে Jokes-বাদী হয়ে যায়? বরং এই দু’মুখো আচরণের জন্য কি সে দু’মুখী ভন্ড হয়ে যায় না?

মিথ্যা মানুষের স্বাভাবিক বাকশক্তিকে ব্যাহত করে। সমাজে তার বিশ্বস্ততা কমিয়ে দেয়। পৃথিবীর কোনো ধর্ম-দর্শন মিথ্যার পক্ষে কথা বলে নি। বড় বড় মনীষীগণের জীবনী খুঁজলে দেখা যাবে যে, তারা জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত সত্যের উপর অবিচল থেকেছেন।

মানুষের মাঝে পশুত্ব আর দেবত্ব দুটোই কাজ করে। পশুত্বকে দমিয়ে রেখে দেবত্ব অর্জনের চেষ্টায় তাকে থাকতে হয়। তা হলেই কেবল মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে। কিন্তু, তারপরও, পশুত্বই জয়ী হয় অধিকাংশ সময়ে। আর স্বেচ্ছায় সে পশুত্বকে, একদিনের জন্যে হলেও, আশ্রয় দিলে তো তা ঘাড়ে চড়ে বসবেই।

ধরুন, আপনি কখনো মিথ্যা বলেন না। কিন্তু একদিন বললেন, তো সেটা আপনার কাছে আগের মতো আর ভয়ানক মনে হবে না। যে কোনো পাপের ক্ষেত্রেই এটা হয়। যে পাপ থেকে আপনি সবসময় দূরে থাকেন, এড়িয়ে চলেন, একদিন কোনো ভাবে বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে যদি সেটা করে ফেলেন, তাহলে আগের মতো সে পাপ কাজটির প্রতি আর ঘৃণা থাকবে না। ভেতরের সুস্থ বিবেকটাও আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়বে। বাধা দেওয়ার ক্ষমতা তার আর থাকবে না।

অনুরূপভাবে, আপনি একটি কাজকে নিষিদ্ধ বলে জানেন। একটি দিনের জন্যও যদি সেটি আপনার কাছে বৈধ বলে মনে হয়, আপনি যদি সেটা সেই একদিনই করে যান নির্দ্বিধায়, তাহলে তার নিষিদ্ধতা আপনার কাছে হালকা হয়ে যাবে। সেটা তখন করাটা আপনার কাছে অতটা জঘন্য মনে হবে না।

এ্যাডিকশন/ নেশার শুরুটা কিন্তু এভাবেই হয়। বন্ধুর হলুদের রাতে এক চুমুক, এরপর থার্টিফাস্ট নাইটে আরেক চুমুক… ব্যস… আস্তে আস্তে এ্যাডিক্টেড। প্রতিটি নেশাগ্রস্থ মানুষই কিন্তু প্রথম জীবনে নেশাকে ঘৃণা করে থাকে। কেউই কিন্ত জন্মগত এ্যাডিক্টেড নয়।

[তিন]

আমাদের মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা সত্যবাদী। তিনি সত্যকে ভালোবাসেন। সত্যবাদীকে ভালোবাসেন। মিথ্যাকে তিনি ঘৃণা করেন চরমভাবে। তিনি বলেন:

إنما يفتري الكذب الذين لا يؤمنون بآيات الله وأولئك هم الكاذبون

মিথ্যা কেবল তারা রচনা করে, যারা আল্লাহ্র নিদর্শনে বিশ্বাস করে না এবং তারাই মিথ্যাবাদী। (১৬:১০৫)

আমাদের প্রিয় নবীজীও স: মিথ্যাকে ঘৃণা করতেন। তিনি বলেন:

وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال آية المنافق ثلاث إذا حدث كذب وإذا وعد أخلف وإذا اؤتمن خان . رواه البخاري و مسلم

আবু হুরায়রা রা: বর্ণনা করেন, নবী স: বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি। ১. কথা বললে মিথ্যা বলে। ২. অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে। ৩. আমানত রাখা হলে তার খেয়ানত করে। (বুখারী-৩৩, মুসলিম-৫৯)

মিথ্যার বিভিন্ন স্তর আছে। এর সবগুলোই নিষিদ্ধ ও নিকৃষ্ট। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

১. আল্লাহ ও তাঁর নবী স: -সম্পর্কে মিথ্যা:

ولا تقولوا لما تصف ألسنتكم الكذب هذا حلال وهذا حرام لتفتروا على الله الكذب إن الذين يفترون على الله الكذب لا يفلحون

তোমাদের মুখ থেকে সাধারণতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বলো না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যারোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না। (১৬:১১৬)

وعن علي رضي الله عنه قال : قال النبي صلى الله عليه وسلم : ” لا تكذبوا عليَّ ؛ فإنه من كذب علي فليلج النار”. رواه البخاري

আলী রা: বলেন, নবী সা: বলেছেন, আমার ব্যাপারে মিথ্যা বলো না। যে আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে। (বুখারী-১০৬)

২. ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা:

عن حكيم بن حزام رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” البيِّعان بالخيار ما لم يتفرقا – أو قال : حتى يتفرقا – فإن صدقا وبيَّنا بورك لهما في بيعهما ، وإن كتما وكذبا محقت بركة بيعهما ” . رواه البخاري

হাকীম বিন হিযাম রা: বর্ণনা করেন, নবী স: বলেছেন, “বিক্রয় চুক্তি সম্পাদিত হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার চুক্তি ভঙ্গের অধিকার থাকে। (এরপর আর থাকে না।) যদি তারা ঠিক ঠিক বলে থাকে এবং সত্য বর্ণনা দিয়ে থাকে তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে। আর যদি তারা কিছু গোপন করে থাকে বা মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে বরকত উঠে যাবে। (বুখারী:১৯৭৩, মুসলিম-৫৩২)

৩. যা শোনা তা-ই বর্ণনা করা:

عن حفص بن عاصم قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” كفى بالمرء كذباً أن يحدِّث بكل ما سمع ” . رواه مسلم

হাফস বিন আসিম রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ স: বলেছেন: মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তা-ই (যাচাই-বাছাই না করে) বর্ণনা করে। (মুসলিম:৫)

৪. ঠাট্টাচ্ছলে মিথ্যা বলা:

অনেকেই ভাবেন, ঠাট্টচ্ছলে মিথ্যা বলা তো কোনো সমস্যা না, তা তো ঠাট্টাই। যেমনটা এপ্রিল ফুলের ক্ষেত্রে তা দেখা যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মিথ্যা সবসময়ই মিথ্যা, এবং তা নিষিদ্ধ। ঠাট্টা হোক আর সিরিয়াস হোক।

৫. বাচ্চাদের সাথে মিথ্যা বলা:

অনেকে এটাকে কোনো পাপই মনে করেন না। অথচ আব্দুল্লাহ বিন আমির রা: বলেন, “একদিন আমার মা আমাকে ডাকলেন, তখন আমাদের ঘরে নবীজীও স: ছিলেন। মা বললেন, এসো, তোমাকে একটা জিনিস দিব। রাসূলুল্লাহ স: তা শুনে বললেন, ‘আপনি কী দিতে চাচ্ছেন?’ মা বললেন, ‘আমি ওকে খেজুর দিতে চাচ্ছি’। নবীজী স: বললেন, (তাহলে ঠিক আছে।) কিন্তু যদি কিছু না দিতেন, তাহলে আপনার নামে একটা মিথ্যা কথা বলার পাপ লেখা হয়ে যেত।

روي عن عبد الله بن عامر رضي الله عنه قال : دعتني أمي يوماً ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاعد في بيتنا فقالت: ها تعال أعطيك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “وما أردت أن تعطيه؟ ” قالت : أعطيه تمراً، فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم : “أما إنك لو لم تعطيه شيئا كتبت عليك كذبة”

৬. মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলা:

عن معاوية بن حيدة قال : سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول : ويل للذي يحدث بالحديث ليضحك به القوم فيكذب، ويل له، ويل له رواه الترمذي وقال : هذا حديث حسن، وأبو داود-

মুয়াবিয়া বিন হায়দা রা: বর্ণনা করেন, ‘আমি নবীজীকে স: বলতে শুনেছি, ‘তার ধ্বংস হোক, যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে। তার ধ্বংস হোক। তার ধ্বংস হোক। (তিরমিযী-২৩৫, আবু দাউদ-৪৯৯০)

মিথ্যার পরিণতি:

১. অন্তরে কপটতা সৃষ্টি হওয়া:

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فأعقبهم نفاقاً في قلوبهم إلى يوم يلقونه بما أخلفوا الله ما وعدوه وبما كانوا يكذبون

তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তারা তাঁর সাথে গিয়ে মিলবে। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘণ করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো। (৯:৭৭)

২. উচ্ছৃঙ্খলতা ও জাহান্নামের পথে নিয়ে যাওয়া:

عن عبد الله بن مسعود قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” إن الصدق بر، وإن البر يهدي إلى الجنة ، وإن العبد ليتحرى الصدق حتى يكتب عند الله صدِّيقا ، وإن الكذب فجور ، وإن الفجور يهدي إلى النار ، وإن العبد ليتحرى الكذب حتى يكتب كذاباً “. رواه البخاري ومسلم

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ স: বলেছেন, নিশ্চয় সত্য হলো পূণ্য, আর তা জান্নাতের পথ দেখায়। মানুষ সত্য বলতে বলতে একদিন আল্লাহর কাছেও তার নাম সত্যবাদী হিসেবে লেখা হয়। অপরদিকে মিথ্যা হলো পাপ ও উচ্ছৃঙ্খলতা। মানুষ মিথ্যা বলতে বলতে আল্লাহর কাছেও তার নাম মিথ্যাবাদীরূপে লেখা হয়। (বুখারী-৫৭৪৩, মুসলিম-২৬০৭)

এছাড়া সামাজিক জীবনে মিথ্যার কী পরিণতি তা তো কারো অজানা নয়।

[চার]

এপ্রিল ফুলে যে শুধু মিথ্যার ছড়াছড়ি হয়, তা কিন্তু নয়। একে অপরকে ঠাট্টাচ্ছলে ধোঁকাও দেন অনেক। অথচ কুরআন ও হাদীস স্পষ্টভাবে মানুষকে ধোকা দিতে নিষেধ করে।

মুনাফিকদের চরিত্র চিত্রায়ণ করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন:

يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ

তারা আল্লাহ্ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকেই ধোঁকা দেয়, কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারে না। (২:৯)

হাদীসে আছে:
عن أبى هريرة. أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- مر على صبرة طعام فأدخل يده فيها فنالت أصابعه بللا فقال « ما هذا يا صاحب الطعام ». قال أصابته السماء يا رسول الله. قال « أفلا جعلته فوق الطعام كى يراه الناس من غش فليس منى ».

আবু হুরায়রা রা: বর্ণনা করেন, একদিন রাসূলুল্লাহ স: তরকারীর একটি স্তুপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। স্তুপের ভেতরে হাত দিয়ে তিনি আদ্রতা অনুভব করেন। তিনি মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার’? মালিক বলল, “নবীজী, এটা বৃষ্টির পানি”। নবীজী স: বললেন, “তাহলে সেগুলো উপরে রাখতে! যেন মানুষ দেখে-শুনে কিনতে পারে। শোন, যে ধোকা দেয় সে আমার দলভুক্ত নয়”। (মুসলিম:২৯৫, তিরমিযী:১৩১৫)

ইমাম তিরমিযী এই হাদীস উল্লেখ করে বলেন, এই হাদীস দিয়ে উলামায়ে কিরাম প্রমাণ করেন যে, কাউকে ধোকা দেওয়া হারাম।

[উপসংহার]

পরিশেষে কথা হলো, ইতিহাস যা-ই হোক না কেন, মিথ্যা বলা ও ধোকা দেওয়া কোনো মুসলমানের, বরং, কোনো সুস্থ মানুষেরই কাজ হতে পারে না। তা সিরিয়াসলি হোক বা ঠাট্টাচ্ছলে হোক।

অতএব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই এর থেকে বিরত থাকা উচিৎ। তাই আসুন সবাই এপ্রিল ফুলকে ‘না’ বলি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

————————-
১লা এপ্রিল ২০০৯