বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে The Biggest International Islamic Concert in Bangladesh.


দু’ সপ্তাহ আগেই টিকেট শেষ। একে তো বাংলাদেশে এ যাবতকালে হওয়া সবচেয়ে বড় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক কনসার্ট। দ্বিতীয়ত, ভেন্যু হল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। আর এর উদ্যোক্তা স্বয়ং বাংলাদেশের বড় বড় আলেমগণ। সব মিলিয়ে সকলের আগ্রহ অনেক বেশিই ছিল। শুনেছি অনেক জায়গায় নকল টিকেটও নাকি বিক্রি হয়েছে।

আমরা রওয়ানা করলাম দুপুর দুইটায়। শুরু হওয়ার কথা তিনটায়। বের হতে দেরি হয়ে গেল। এরপর রাস্তার নিয়মিত ট্রাফিক জ্যাম। আবার শুনেছিলাম, তিনটার পর কোন টিকেট গ্রহণ করা হবে না। টিকেটের মাঝে কোন সিরিয়াল নাম্বার ছিল না, তাই নকল ঠেকাতে হয়ত কর্তৃপক্ষের কাছে এছাড়া আর কোন পথও ছিল না। অর্থাৎ নকল টিকেটে কেউ যদি ঢুকেও যায়, তাহলে যাদের আসল টিকেট আছে তারা ভেতরে আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আর ঢুকতে পারবেন না। এসব মিলিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম, যদি তিনটার বেশি বেজে যায়.. যদি ঢুকতে না পারি..

যাহোক, আমরা আলহামদুলিল্লাহ তিনটা বাজার ৩ মিনিট আগেই পৌঁছুলাম। কিন্তু একি দেখি.. ভেতরে ঢুকার বিশাল লাইন। যারা গতকাল চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কম্পিউটার মেলায় গিয়েছেন তারা হয়ত দেখেছেন ব্যাপারটা। শুধু হুযুর আর হুযুর। ঢুকতে ঢুকতেই ৪ টা বেজে গেল। প্রথম বলে কিছু মিস্ ম্যানেজমেন্ট ছিল। তাই আর তিনটায় শুরু করা যায়নি। ভেতরে ঢুকার কিছুক্ষণ পরই ঘোষণা শোনা গেল, “আসরের আযান হয়ে গিয়েছে। তাই চলুন আমরা নামায পড়ে নিই। আমাদের এই হলের সামনের ডান ও বাম দিকের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আরেকটা হল আছে যেখানে এক সাথে পাঁচশত জন নামায পড়তে পারে। সেখানে চলে যান। নামাযের পর সকলেই আবার নিজ নিজ স্থানে এসে বসবেন”। আবার একটা হিউম্যান জ্যাম লাগল। এত্তগুলা মানুষ একসাথে যখন একটা গেটের দিকে এগিয়ে যায় তখন কি অবস্থা হয় ভাবুন। যাহোক, সেখানে একটা রুম খুলে দেয়া হল আমাদের নামাযের জন্য। যথারীতি ইকামত.. নামায। এরপর আবার স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসলাম। এবার কোন গন্ডগোল হল না।

এ অনুষ্ঠানটি ‘কলরব শিল্পীগোষ্ঠী’ ও ‘ইকরা বাংলাদেশ’ এর যৌথ প্রযোজনা। কলরব হল বাংলাদের নামকরা ইসলামী সংগীতশিল্পী ‘আইনুদ্দীন আল আজাদ’ –এর প্রতিষ্ঠান। আর ইকরা বাংলাদেশ হল মাদ্রাসা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এক স্কুল যার প্রায় বিশটিরও বেশি শাখা আছে সারা বাংলাদেশে। ঢাকার চৌধুরীপাড়ায় এর মূল শাখা। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ পাকিস্তানের ‘জুনাইদ জামশেদ’। ১৯৮৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যিনি পাকিস্তানের অন্যতম ফেমাস পপ সিঙ্গার, ২০০২ থেকে অদ্যবিধি তিনিই একজন ফেমাস ইসলামী সংগীতশিল্পী। তাবলীগের ছোঁয়ায় তার জীবন ঘুরে গিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেটার সাঈদ আন্‌ওয়ার, সাকলাইন মুশতাক তার তাবলীগী সাথী। এছাড়াও অন্যান্য শিল্পীদের মাঝে আছেন ইংল্যান্ডের ইকবাল আনোয়ার ও ভারতের আহমাদ আব্দুল্লাহ। আর আমাদের আইনুদ্দীন আজাদ ও তার কলরবের শিশু শিল্পীরা তো আছেনই। অনুষ্ঠানটির স্লোগান ছিল, “বিশ্ব শান্তির প্রত্যাশায়.. for global peace..”

নামায থেকে আসার কিছুক্ষণ পরই আইনুদ্দীনের কণ্ঠ শোনা গেল, “আপনারা সবাই সুশৃঙ্খলভাবে বসে পড়ুন। আমাদের অনুষ্ঠান এখনই শুরু হতে যাচ্ছে। আমি মাইক ছেড়ে দিচ্ছি আজকের দুই উপস্থাকের হাতে। একজন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদপাঠক, (তার নামটি একটুও মনে করতে পারছি না।) অপরজন রেডিও টুডে’র আর.জে নীরব”। রেডিও টুডে অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার। এছাড়াও আছে ইসলামী টিভি, দৈনিক ইনকিলাব ও আমার দেশ। অনুষ্ঠান শুরু হল ইকরা বাংলাদেশের এক শিশুর কণ্ঠে কুরআন পাকের তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর মাগরীবের আযানের আগ পর্যন্ত চলল কলরবের শিশু শিল্পীদের হৃদয় ছোঁয়া হামদ ও নাত। এর মধ্যেই প্রথম সারিতে এসে বসলেন জুনাইদ জামশেদ ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। মাগরিব নামাযের বিরতির ঘোষণা দিলেন আর.জে নীরব। আবারও জ্যাম লাগল গেটে। এদিকে অনেকে জুনাইদ জামশেদের সাথে হাত মিলালো। আমিও সুযোগটা নিলাম। বললাম, “আপ সে ‘মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা মেরে মুহাম্মদ কা নাম’ পাহলে সুননা চাহেঙ্গে”। তিনি উত্তর দিলেন, “হা জি? চালো সুনা দেঙ্গে.. (মুচকি হাসি)”। বড় বড় উলামায়ে কিরাম যারা ছিলেন তারা স্টেজেই জামাত করলেন। আমিও সুযোগটা নিলাম। ফলে আর অন্য রুমে যেতে হল না।

নামায শেষে এবার লাগল হুলস্থুল। এবার কেউ তার আগের জায়গায় নেই। আমি তাড়াতাড়ি ফিরে আসায় আমার আগের সিটটা পেলেও অন্য অনেকেই তা আর পায়নি। ফলে.. অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে গেল এরই মধ্যে। তবে ভলান্টিয়ার ভাইদের সহযোগিতায় সবকিছু আবার নিয়ন্ত্রণে চলে আসল।

মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে এখন। প্রথমে কুরআন পাকের তিলাওয়াত হল। এরপর ইকরা বাংলাদেশের প্রধান পরিচালক আল্লামা ফরিদুদ্দীন মাস’উদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন। তাঁর বক্তব্যে এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ফুটে উঠল। তিনি বললেন, “অতীতেও এটা প্রমাণীত যে, যেখানেই কোন ফিতনা-ফাসাদ শুরু হয়, সেখানে যদি আল্লাহর জিকির, হামদ ও তার নবীর (সাঃ) উপর প্রশংসা-দুরুদ পাঠ করা হয়, তাহলে আল্লাহ সেখানে রহমত নাজিল করেন। আজ আমাদের দেশ যে ক্রান্তিলগ্ন পার করছে, যে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করছে, আশা করছি এর বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের উপর রহমত নাজিল করবেন। আল্লাহ এই অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং আজকের সকল উপস্থিতিকে কবুল করুন। আমীন।”

এরপর তিনি সকল বিদেশি শিল্পী ও অতিথিদের মঞ্চে আসতে অনুরোধ করলেন। পরিচয় করিয়ে দিলেন সবার সাথে। একে একে.. জুনাইদ জামশেদ, পাকিস্তান। ইকবাল আনোয়ার, ইংল্যান্ড। আহমেদ আব্দুল্লাহ, ভারত। ইরফান সাঙ্গে, ইংল্যান্ড। হানীফ দুদওয়ালা, ইংল্যান্ড। মাও: আলী আল ফালাহী, ইংল্যান্ড। কায়কোবাদ, সাবেক ধর্মমন্ত্রী, গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার..

তারপর ইংল্যান্ডের মাও: আলী আল ফালাহী সংক্ষেপে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) ভালবাসার উপর একটা চমৎকার বক্তব্য দিলেন। বিশ্বাস করুন, আমার শুনা আমার জীবনে সবচেয়ে সুন্দর বক্তব্য। এত সুন্দর উপস্থাপনা, এত সুন্দর উচ্চারণ, সবচেয়ে বড় কথা, হৃদয়ের এত গভীর থেকে, এত আবেগ দিয়ে.. যেন ক্ষণিকের জন্য আমরা সবাই রাসুলুল্লাহর (সঃ) যুগে চলে গিয়েছিলাম। যেখানে সাহাবায়ে কিরামের মত আমাদের হৃদয়েও রয়েছে নবীজীর (সাঃ) প্রতি অগাধ ও নিখাদ ভালবাসা।

এরপর আইনুদ্দীন মঞ্চে আসলেন। তার পুরোনো তিনটি গান শোনালেন। আইন, কি জবাব দিবি রে তুই আল্লাহরই কাছে আর স্বাধীনতা। তিনি বললেন, বর্তমানে উলঙ্গ ও অর্ধালোঙ্গ নাচকেই সংস্কৃতি ভাবা হচ্ছে। অথচ তা হচ্ছে অপসংস্কৃতি। সংস্কৃতি আর উলঙ্গপনা এক হয় কিভাবে?

এরপর ভারতের আহমাদ আব্দুল্লাহ ও ইংল্যান্ডের ইকবাল আনোয়ার একটি একটি করে হামদ-নাত গেয়ে শুনালেন।

এবার মঞ্চে আসলেন বহু প্রতীক্ষীত জুনাইদ জামশেদ। তিনি শুরুতেই বললেন, এখন হজ্জ্বের মাস। সবাই মক্কা যাচ্ছে। মদীনা যাচ্ছে। কত খুশী তাদের। চলুন আমরাও মদীনা যাই। গাইলেন “ইয়ে সুবহে মাদীনা, ইয়া শামে মাদীনা.. মুবারাক তুঝে ইয়ে ক্বায়ামে মাদীনা.. মাদীনা মাদীনা”। আমরাও তার সাথে গাইলাম। মদীনায় পৌঁছে গেছি। মসজিদে নববীর মিনার দেখতে পাচ্ছি। আহ, সে যে কি শান্তি। না গিয়ে বুঝা যাবে না। একটু পর নবীজীর (সাঃ) রওজা মোবারকে যাব। সেখানে দাঁড়িয়ে সালাম দিলে নবীজী (সাঃ) সরাসরি শুনবেন। গাইলেন “মুহাম্মাদ কা রাওজা কারীব আ রাহা হ্যায়, বুলান্দি পে আপনা নাসীব আ রাহা হ্যায়.. ফেরিশতো ইয়ে দে দো পায়গাম উন কো, খাবার যাকে দে দো উন কো ফেরিশতো, কে খাদিম তুমহারা সাঈদ আ রাহা হ্যায়..” আহ.. এত আবেগ দিয়ে.. হৃদয়ের এত ভেতর থেকে.. চোখে পানি এসেই পড়ল..

এবার আমরা মদীনায়। মদীনার আকাশ বাতাস সব জায়গায় প্রিয় নাম। মুহাম্মাদ (সাঃ)। এ অনুভূতি স্বর্গীয় অনুভূতি। গাইলেন “মিঠা মিঠা পেয়ারা পেয়ারা মেরে মুহাম্মাদ কা নাম, হাম সাব ভেজে উন পে হাজারো লাখো দুরুদ সালাম…” আমরাও সঙ্গে সঙ্গে গাইলাম..

এরপর আরো কয়েকটা হামদ-নাত গাইলেন। সবচেয়ে মজা হল যখন তিনি একটা বাংলা নাত গেয়ে শুনালেন। এটা নাকি তার এক বাঙ্গালী বন্ধু শিখিয়েছেন। “নবী মোর পরশমনি, নবী মোর সোনার খনি..” আর.জে নীরবও আর নীরব থাকতে পারলেন না। অসাধারাণ.. সত্যিই অসাধারণ.. বলে উঠলেন তিনি। সত্যি। এই “নবী মোর পরশমনি” যেন শুধু তার কণ্ঠেই মানায়। আহ… আবার চোখে পানি.. সত্যিই আমরা মদিনায়..

এরই মাঝে ফাকে ফাকে জুনাইদ জামশেদ কিছু কথা বললেন। নিজের জীবনের কথা, পরিবর্তনের কথা ইত্যাদি। দর্শক সারি থেকে হঠাৎ হঠাৎ-ই তাকবীর ধ্বনি ভেসে আসল। আর জুনাইদ জামশেদ বলছেন, “দোস্তো! ইয়াকীন মানো। হাম নে বহত সারে মেহফিল কী। বহত সারে মেহফিল দেখেঁ। লেকিন আজ যেয়সে ইতনা রওনাক অর শানদার অর বাড়ে মেহফিল মেয়নে কাভি নেহি দেখা। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ..” হাহা.. তিনি খুবই রসিক মানুষ। আবার বললেন, “দেখো.. ইয়ে দ্বীন ভি কিতনা আজীব হ্যায়। সাব কো এক কার দেতা হ্যায়। বাংলাদেশী, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি, আমরিকান.. সাব কো ভাই ভাই বানা দেতা হায়।”

আরেকটি মূল্যবান কথা বললেন তিনি। “ভাই, আজ ইয়াহা আনেকা মাকসাদ কেয়া হ্যায় জানতে হো? ওয়াদা কারো কে আজ কে বা’দ কাভি গানা নেহি সুনেঙ্গে। দোস্তো, ইয়ে গানা তো হামারা নেহি হ্যায়। হামারা তো হ্যায় ক্বিরাত, হামদ অর নাত।” সবাই হাত তুলে ওয়াদা করল। তিনি বললেন, “আল্লাহ তুমকো জাযায়ের খাইর দে”।

এরপর তিনি আল্লাহর কাছে মুনাজাতের জন্য গাইলেন, “ইলাহী তেরে দার পার ম্যায় ভিখারী বান কে আয়া হু”.. আহ.. প্রতিটা গানই তিনি এত ভেতর থেকে গাইলেন.. এটা লিখে বুঝানো যাবে না।

তার উঠে যাওয়ার পর আবার আসলেন আইনুদ্দীন। তিনি কিছুক্ষণ মাতিয়ে রাখলেন দর্শকদের। “কি হবে বেঁচে থেকে” সহ আরো কয়টি গান গেয়ে।

এবার একে একে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর শিশুশিল্পীরা আসল। প্রথমে সম্মিলিত কণ্ঠে “ইয়া সাইয়্যিদি” গাইল। এত ছোট ছোট বাচ্চা আর এত সুন্দর কণ্ঠ.. মাশা’আল্লাহ। কলরবের অন্যতম প্রসিদ্ধ শিল্পী ‘আবু রাইহান’ তার ‘খাচার ভিতর অচিন পাখি’ ও আরেকটি গান গাইল। এছাড়া দাউদ আনাম, আহমাদ আব্দুর রহীম পৃথকভাবে গাইল। আর কয়েকটি সম্মিলিত কণ্ঠের হামদ-নাত তো ছিলই।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আরেকটি আকর্ষণ ছিল, পাঁচ-ছয় বছরের ছোট্ট এক শিশুর কণ্ঠে অসাধারণ এক নাত্। ইকরা বাংলাদেশের ছাত্রী হবে হয়ত।

সবশেষে সম্মিলিত কণ্ঠে একটা দেশাত্মবোধক গান হল। “আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ”। ঘড়ির কাটায় তখন নয়টা। আইনুদ্দীন মাইক হাতে মঞ্চে আসলেন। “নয়টার সময় আমাদের হল ছেড়ে দেয়ার কথা। তাই অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমাদের এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। আপনার লক্ষ্য করেছেন যে, বিদেশি শিল্পীদের অতিরিক্ত সময় নেয়ায় আমাদের কলরবের অনেক আয়োজন বাদ দিতে হয়েছে। আমরা দুঃখিত। যা কিছু সফলতা সব আপনাদের। আর যা কিছু ব্যর্থতা সব আমার, আমাদের। ইনশা’আল্লাহ সামনে আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। স্টেডিয়াম ভাড়া নেয়ার ইচ্ছা আছে। দু’আ করবেন”।

এদিকে আর.জে নীরবের অদৃশ্য উপস্থাপনায় অনেকেই মুগ্ধ হয়ে তাকে দেখার জন্য ছুটে গেছে। কিন্তু হায়.. সকলে সরব হওয়ার আগেই নীরবে নীরব সরে পড়েছেন।

যারা গতকালের এই অনুষ্ঠানটি মিস করেছেন তারা নিঃসন্দেহে একটা বড় মিস করেছেন। অবশ্য তাদের কথা স্মরণে রেখেই কর্তৃপক্ষ পুরো অনুষ্ঠানটির ভি.সি.ডি/ ডি.ভি.ডি দু’সপ্তাহের মাঝে বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ইসলামী টিভি তো থাকছেই। মাঝে মাঝে প্রচার করতে পারে।

আমি অনুষ্ঠানটির কথা আগে বলিনি তাই আমাকে দোষারোপ করবেন না কিন্তু। আমি নিজেই কষ্ট করে টিকেট পেয়েছি। ২০০, ৫০০, ১০০০, ৫০০০ টাকার সব টিকেটই শেষ হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। তবে হ্যাঁ, সামনে আবার এমন মাহফিল হলে আপনাদের অবশ্যই জানাব কথা দিচ্ছি।

Note: জুনাইদ জামশেদের প্রতিটা গানের সাথে তার লিংক দিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার সকল ইসলামী গানের জন্য ক্লিক করুন এখানে। জুনাইদ জামশেদের জীবন কিভাবে পরিবর্তন হয়েছে তা তার নিজ মুখে শুনুন এখানে। আর আইনুদ্দীন আজাদ ও কলরব শিল্পীদের গানের কোন লিংক নেই আমার কাছে। তবে যারা দেশে থাকেন, তারা সহজেই এসব পেতে পারেন বায়তুল মুকাররমে বা ইসলামী ক্যাসেট দোকানগুলোতে।

—————————-

প্রথম প্রকাশ: ২১শে নভেম্বর ২০০৮, প্রথম আলো ব্লগে