প্রসঙ্গ তথাকথিত ‘ভালোবাসা দিবসে’ প্রকাশ্যে নষ্টামি করার ইভেন্ট ও আমাদের প্রতিক্রিয়া

“ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে যৌতুকবিহীন বিবাহ করবো” -এই নামে পাল্টা ইভেন্ট হতে পারত। শুধু শুধু তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে ভিসা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করার কোনো প্রয়োজন হত না। বাতিলের মোকাবিলায় হককে বেশি বেশি তুলে ধরতে হবে, বাতিল এমনিতেই পালাবে। 

“বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।” (আল-কুরআন, ১৭:৮১)

আমাদের দেশে তথাকথিত বিবাহবহির্ভূত ভালোবাসা চালানোর জন্য বিভিন্ন রকম প্রমোশন ও সুযোগ-সুবিধা থাকলেও, বিবাহ এখানে কঠিন। ভালোবাসার কোনো বয়স না থাকলেও বিবাহের ন্যূনতম বয়স আছে। ভালোবাসার জন্য কোনো রিকয়ারমেন্ট না থাকলেও বিবাহের জন্য ছেলের এস্টাবলিশ হওয়া, বাড়ি-গাড়ি ব্যাংক-ব্যালেন্স থাকা আবশ্যক। ত্রিশের নিচে ছেলেরা শিশু, বিবাহের বয়স তাদের হয় না। অথচ তত দিনে হয়ত ডজনখানেক প্রেমিকা বদল হয়ে গেছে। আঠারোর আগে নারী শিশু, অথচ ভালোবাসা হয়ত চলছে বছর পাঁচেক বা আরো বেশি সময় ধরে। 

বিবাহে উচ্চ মোহর নির্ধারণ, মোহর নিয়ে ঝগড়া, স্বর্ণ কত ভরি তা নিয়ে বাদানুবাদ, যৌতুক ছাড়া বিবাহে মেয়েপক্ষ কী কী হাদিয়া দিচ্ছে তার হিসাব করা, ইদানীং ওয়েডিং ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহে লাগামহীন খরচ, আর নারী-পুরুষের হারাম সংমিশ্রণ – সব মিলিয়ে বিবাহ একটি মাল্টি-লাখ বা কখনো মাল্টি মিলিয়নের কাজ। যা যোগাড় করার কসরত করার চেয়ে এবং সংসার নামক দায়িত্ব কাঁধে নেয়ার চেয়ে তথাকথিত রিস্ক ও লায়াবিলিটিবিহীন ভালোবাসা করা তাদের পক্ষে সহজতর। এখন অনেকেই জানান, মেয়ে খুঁজে পাচ্ছেন না, হয়ত দেখে আসছেন, পরে মেয়ে ফোনে জানাচ্ছে, তার “ভালোবাসা” আছে। আবার ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। 

এসব দিবস কেবলই ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তৈরি করা। বিবাহকে নিয়ে এরকম ব্যবসা জমানো যায় না যে! যত বেশি হারাম রিলেশন, তত বেশি বিজনেস। 

বিবাহকে কঠিন করার পরিণাম সমাজে যিনা বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বেড়ে যাওয়া। আর সমাজে যিনা বেড়ে যাওয়া কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত। সে হিসেবে বিবাহ কঠিন করাটা কিয়ামতের আলামত।

বিবাহ নিয়ে বছর দুয়েক আগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। আজ আবার শেয়ার করছি।